কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত তিমি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত তিমি। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে জোয়ারের সময় সৈকতের ঝাউবাগান–সংলগ্ন পূর্বপাশে এটি ভেসে আসে। এটি ‘বেলিন’ প্রজাতির তিমি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, এর আগে জেলেরা কুয়াকাটা থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে মৃত তিমিটিকে ভাসতে দেখেছিলেন। আজ বেলা দুইটায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে সৈকতের ঝাউবাগান–সংলগ্ন পূর্বপাশে আটকে পড়ে মৃত তিমিটি।
খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা এসে তিমিটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তিমিটি অর্ধগলিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন মৃত তিমিটিকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে, শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব না হলে মাটিচাপা দেওয়ার চিন্তা করছে উপজেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, মৃত তিমিটি বেলিন প্রজাতির। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে কী কারণে তিমিটি মারা গেছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।
মৃত তিমিটির ছবি দেখে এটি বেলিন প্রজাতির বলে জানান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, কুয়াকাটা উপকূলে তিমি ভেসে আসার ঘটনা সামুদ্রিক প্রতিবেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা নেক্রোপসি অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত জালে আটকে যাওয়া, জাহাজের আঘাত, অসুস্থতা, প্লাস্টিক দূষণ, খাদ্যের সংকট কিংবা সমুদ্রের স্রোতের কারণে মৃত বা দুর্বল তিমি তীরে ভেসে আসতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরাও খবর পেয়েছি। মৃত তিমিটিকে সংরক্ষণ করা যায় কি না, সেটা ভেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কথা বলেছি।’
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বেলিন তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাদের দাঁতের পরিবর্তে মুখে ‘বেলিন’ নামের ঝালরের মতো প্লেট থাকে। এরা এই বেলিনের সাহায্যে সমুদ্রের পানি ছেঁকে অতি ক্ষুদ্র ক্রিল ও প্লাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে। নীল তিমি এই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এরা আকারে বিশাল হয়। দৈর্ঘ্য ২০ ফুট থেকে শুরু করে ১০০ ফুট (নীল তিমি) পর্যন্ত হতে পারে। এদের মাথার ওপর দুটি শ্বাসছিদ্র বা ব্লোহোল থাকে।
বেলিন প্রজাতির তিমি (যেমন নীল তিমি, কুঁজপিঠ তিমি ও রাইট তিমি) পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরেই পাওয়া যায়। তবে প্রচুর খাদ্যের (ক্রিল) খোঁজে গ্রীষ্মকালে এরা মেরু অঞ্চলের আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরে এবং শীতকালে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পরিভ্রমণ করে থাকে।