চট্টগ্রামে খতনা করাতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন
চট্টগ্রাম নগরে খতনা করাতে গিয়ে সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ মোস্তফার মৃত্যুর ঘটনায় আজ বুধবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এতে ডেপুটি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে সভাপতি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত শনিবার খতনা করাতে গিয়ে সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ মোস্তফার মৃত্যু হয়। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সার্জারির জন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। সন্ধ্যা ছয়টায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১০টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সনদে কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে, হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া (হার্ট অ্যাটাক)।
আবু মুসার অভিযোগ, ‘অ্যানেসথেসিয়ার অপব্যবহারের কারণেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।’ আবু মুসা জানান, ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলেন চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট ১ কিলোমিটার এলাকার সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন রিসিভ করেনি।
তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়। এতে খুব কম ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে এই শিশুর ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত না দেখে বলা সম্ভব নয়।
এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মোস্তফাকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ ছিল, তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি রয়েছে, যা ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ হিসেবে চিহ্নিত। ওই ব্যবস্থাপত্রে খতনা ও ছোট ধরনের একটি সার্জারির কথা বলা হয়। সেখানে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের কথাও উল্লেখ ছিল।
মোস্তফার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামে। সে ছিল পরিবারের বড় সন্তান। তার আরও একটি দুই বছর বয়সী ভাই রয়েছে। বাবা আবু মুসা স্থানীয় একটি ডিশ কেব্ল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।