এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে এবার ইশতেহারও ঘোষণা করলেন জামায়াতের প্রার্থী
চট্টগ্রাম–৮ (চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ। ওই আসন এনসিপিকে জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে দেয়। তবে জোটের প্রার্থী থাকার পরও ভোটের মাঠে ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাছের। গতকাল সোমবার নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেন তিনি।
জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম–৮ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির মো. জুবাইরুল হাসান আরিফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান দলটির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মো. আবু নাছের। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় নিয়ম অনুযায়ী দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ পান। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নামেন তিনি।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ ওমর বিন আফসারের মা রুবি আক্তার, শহীদ মাহবুবের বড় ভাই হাসান মাহমুদ, শহীদ ওমরের ভাই আহমেদ বিন নুরুল আফসার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আলম ও বোয়ালখালী উপজেলা হিন্দু পরিষদের নেতা ভুটান বিশ্বাস। তাঁদের বক্তব্যের পর নিজের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন আবু নাছের।
মো. আবু নাছের বলেন, চট্টগ্রাম–৮ আসন ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণফুলী নদীর দুই তীরজুড়ে বিস্তৃত এই আসনের সমস্যা ও সম্ভাবনা ভিন্নধর্মী। নির্বাচিত হলে কালুরঘাট সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন, নগর অংশে জলাবদ্ধতা নিরসন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ইকোট্যুরিজম, আইটি ভিলেজ ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং দমনসহ ১১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
এ আসনে দুই দলের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই জামায়াতের প্রার্থী ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। প্রতীক বরাদ্দের পর শরিক দলের প্রার্থীর সমর্থনে তিনি আর মাঠে ছিলেন না। বিপরীতে এনসিপির প্রার্থী প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই মাঠে রয়েছেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বোয়ালখালীতে এসে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তবে গত বুধবার থেকে জামায়াতের প্রার্থী আবার প্রচারণা শুরু করায় ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় নিয়ম অনুযায়ী মো. আবু নাছের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ পান। তাঁর প্রতিনিধি ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক গ্রহণ করেন। তবে দুই ঘণ্টা পর এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
এই ঘোষণার পর কিছুদিন মাঠে দেখা যায়নি আবু নাছের কিংবা তাঁর দলীয় নেতা–কর্মীদের। তবে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট দেখা যায়। ৩১ জানুয়ারি তাঁর পক্ষে বোয়ালখালীতে মিছিল করেন মহিলা জামায়াতের নেতা–কর্মীরা। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার নিজেই প্রচারণায় নামেন আবু নাছের। নগরের চান্দগাঁও এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি। পাশাপাশি নগর ও উপজেলার বিভিন্ন সড়কে তাঁর ব্যানার–বিলবোর্ডও দেখা গেছে। এবার তিনি ইশতেহারও দিয়েছেন।
তবে এ আসনে জামায়াতের সমর্থন ঐক্যের প্রার্থীর পক্ষে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, মো. আবু নাছের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর কিছু সমর্থন থাকতে পারে। তবে সমঝোতা অনুযায়ী আসনটি এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এনসিপির প্রার্থীই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি আবু নাছেরকেও জানানো হয়েছে।