নারী হওয়ায় আমাদেরও বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে: বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন

নাটোর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল) বাগাতিপাড়া উপজেলার ঠেঙ্গামারা গ্রামে উঠানবৈঠকে বক্তব্য দেন। সোমবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

‘নারী হওয়ায় আমাদেরও বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। তাহলে বাংলাদেশের কোন নারী নিরাপদ?’ গতকাল সোমবার বিকেলে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক পথসভায় উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে এ প্রশ্ন রাখেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন (পুতুল)। তিনি উপস্থিত নারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা এই জায়গাটার পরিবর্তন করব ইনশা আল্লাহ। কিছু হীন মানসিকতার লোকজন তো সমাজে থাকবেই, জনগণই তাদের বর্জন করবে।’

আইনজীবী ফারজানা শারমিন বিএনপির প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুর রহমানের (পটল) মেয়ে। নাটোর-১ আসনে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক (বহিষ্কৃত) তাইফুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় গৌরিপুরের নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের মুখোমুখি হন ফারজানা। পরে দুপুর ১২টায় তিনি বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচারণা চালান। এ সময় প্রতিটি এলাকায় তাঁর প্রচারাভিযান অনুসরণ করেন এ প্রতিবেদক।

শুরুতেই জিগরী সবুজ সংঘে নির্বাচন কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন ফারজানা। সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ ছিল। পরে কর্মশালা থেকে বেরিয়ে তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পাশের জিগরী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তরুণদের ফুটবল উপহার দেন এবং তাঁদের খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে গ্রামের মেঠোপথ ধরে ঠেঙ্গামারা গ্রামে যান এই প্রার্থী। এ সময় তাঁকে দেখার জন্য রাস্তার পাশে বের হওয়া নারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

পরে গ্রামের জমসেদ মেম্বারের বাড়ির আঙিনায় উঠান বৈঠকে অংশ নেন ফারজানা। সেখানে গ্রামবাসী তাঁর কাছে দেড় কিলোমিটার মাটির রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রুতি চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৯১ সাল থেকে এ এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কিছু কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। আমি তাঁর বেটি। আপনাদেরও বেটি। এই বেটির ওপর আস্থা রাখেন। নির্বাচিত হলে নিশ্চয়ই সব সমস্যার সমাধান হবে।’

পরে একই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল আজিজের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন বেশ কিছু নারীসহ শতাধিক কর্মী। বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসানুজ্জামানের পরিবারের লোকজন তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাঁদের আইনি সেবা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই প্রার্থী বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। শিক্ষার্থীরা অটোগ্রাফ চাইলে নির্বাচনী প্রচারপত্রের পেছনে নিজের নাম লিখে দেন। শিক্ষার্থীরাও উৎফুল্ল হয়ে তাঁর পক্ষে স্লোগান দেন। প্রার্থী নিজেও প্রতিটি পথসভায় ধানের শীষে ভোট চেয়ে কর্মীদের নিয়ে স্লোগান দেন।

ফেরার পথে ফারজানা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রাজশাহী বিভাগের একমাত্র দলীয় (বিএনপি) নারী প্রার্থী। বিগত দিনের কর্মকাণ্ডে মনে হয়েছে নারী প্রার্থী হওয়ার সুবিধাই বেশি। কারণ, একজন নারী প্রার্থী হয়ে নারী ভোটারদের খুব কাছাকাছি যাওয়া যাচ্ছে। তাঁরা মন খুলে কথা বলতে পারছেন। তবে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন সমাজের কিছু কলুষিত মানুষ নীতি-নৈতিকতা ভুলে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা চালান।’
সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এক সমর্থকের অশালীন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ফারজানা বলেন, ‘এসব করে তাঁদের ভোট আরও কমবে। মানুষের কাছে তাঁদের ঠাঁই হবে না। সব শেষে এই আসনে আমি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাব।’