সমাবেশে সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘বিএনপিকে প্রতিহত করতে সবাই প্রস্তুত থাকুন। দলটি দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার ষড়যন্ত্র করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। কিন্তু সেই দিবাস্বপ্ন এ দেশে আর বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। বিএনপির ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’

পঙ্কজ নাথ আরও বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণের কথা ভাবে না। বৈশ্বিক সংকট থেকে সৃষ্ট মন্দাবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব, তা তাদের চিন্তায় নেই। তাদের চিন্তা একটাই—ক্ষমতা দখল। বরিশালে সমাবেশ আয়োজন করে তারা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য উসকানি দিয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই চক্রান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। মেহেন্দীগঞ্জেও এ ধরনের চক্রান্ত চলছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পঙ্কজ নাথকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি এলাকার রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পঙ্কজ নাথকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করে কেন্দ্রে রেজল্যুশন পাঠানো হয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়, পঙ্কজ নাথ নির্বাচনী এলাকা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দলের মধ্যে বিভেদ ও নিজের বলয় তৈরি করতে পুরোনো ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়া, নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পরাজিত করতে খুন, দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধর, কুপিয়ে জখম এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের অপমান-অপদস্থ করছেন—এমন অভিযোগও আনা হয়। তবে পঙ্কজ নাথ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে মনে করেন তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা।

দলীয় পদ হারানোর পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর পঙ্কজ নাথ প্রথম এলাকায় ফেরেন। সে সময়ও তাঁর সমর্থকদের নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা—দুই উপজেলায় ব্যাপক মহড়া দেন।

আজ বিকলে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, সহসভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহে আলম বয়াতী, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রাকিব মাহামুদ তালুকদার, সহদপ্তর সম্পাদক অজয় গুহ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক মশফিকুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর সোহেল মোল্লা, নাদিম মাহামুদ তালুকদার, মনির জমদ্দার, সাইফুল ইসলাম ব্যাপারী, আলী আবদুল্লাহ, ইউপির চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঢালী, হারুন অর রশিদ মোল্লা, শেখ শহীদুল ইসলাম, আবদুল কাদের ফরাজী প্রমুখ।

স্থানীয় রাজনীতিতে পঙ্কজ নাথের বিরোধী পক্ষে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামাল খান। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দলীয় কোনো কর্মসূচি নয়। পঙ্কজ নাথ ও তাঁর সমর্থকদের কর্মসূচি। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’