ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, তাঁর পথসভার জন্য তৈরি মঞ্চ প্রতিপক্ষ ভেঙে দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে সরাইলের অরুয়াইল বাজার এলাকায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
উপজেলার হাওরবেষ্টিত অরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে রুমিন ফারহানার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে কলেজ মাঠে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই মঞ্চে তিনি সভা করতে না পেরে তাঁর গাড়িতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন।
গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে অরুয়াইল বাজার এলাকায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সবাই জানেন, কলেজ মাঠে একটা স্টেজ করা হয়েছিল আমার প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের লোকজন দিয়ে ওই স্টেজ ভেঙে দিয়েছে। আমি আজ (গতকাল) বাধ্য হয়ে আপনাদের দরজায় দরজায় গেছি। শেষমেশ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছি। আপনার আগামী ১২ তারিখ (১২ ফেব্রুয়ারি) এই অন্যায়ের সমুচিত জবাব দেবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না। আমরা নিরীহ মানুষকে পয়সা দিয়ে মামলায় ঢুকিয়ে দেবে, সেইটা হইতে দেব না। দোকানে দোকানে চান্দাবাজি-ধান্দাবাজি, অবৈধ বালুর ব্যবসা করতে দেব না।’
এরপর রাত সাতটার দিকে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের ভূঁইশ্বর বাজারে পথসভায় রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আওয়ামী লীগের সময়ে যখন নেতারা ভয়ে কথা বলত না, নেতারা মোবাইল বন্ধ রাখত, বিদেশি নম্বর ব্যবহার করত যাতে কর্মীরা খুঁজে না পায়, সেই সময় এই দেশে দাঁড়াইয়া, সংসদে হাসিনার সামনে দাঁড়াইয়া, ৩০০ এমপির সামনে দাঁড়াইয়া বলছি তোমরা অবৈধ।’
উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনারা ভালোবাইসা আমারে বলেন “বাঘিনী কন্যা”। আর আমি আমার নিজেরে কই “সরাইল্লা মোরগ”। সরাইল্লা মোরগ মইরা যায়, হার মানে না। মানুষ আমার সঙ্গে যদি থাকে, আল্লার ওপর ভরসা রাইখা বলি, দুনিয়ায় কোনো শক্তি নাই রুমিন ফাহানাকে আটকায়। এই আসনের নির্বাচন হবে সত্যের পক্ষে, সাহসের পক্ষে।’
সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।