নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আগের সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপন
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খুলে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের থানা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো ও অন্য তিন সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণের ঘটনার দুই দিনের মাথায় আবার জেলা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও ছবি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শনিবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী মুন লাইট সিনেমা হলের সামনে ওই কার্যালয় থেকে ‘মাননীয় সংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৩–এর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে আবার ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি কার্যালয়ের ভেতর থেকে খুলে ফেলা তিন সংসদ সদস্যের ছবিও পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, শনিবার ভোরে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের থানা কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ডটি খুলে জেলা বিএনপির কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ডটি লাগিয়ে দেন তাঁর অনুসারীরা।
এদিন বেলা ১১টার দিকে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে ওই কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সাইনবোর্ড খুলে ফেলার সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
প্রায় ৬ মাস আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ দলীয় নেতারা জেলা বিএনপির কার্যালয়টি উদ্বোধন করেন। প্রধান ফটকের ওপরে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা’ লেখা সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। কার্যালয়ের ভেতরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছবি টাঙানো ছিল।
গত বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের অনুসারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতা–কর্মী কার্যালয়ে গিয়ে জেলা বিএনপির সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন। পরে সেখানে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। একই সঙ্গে তিন সংসদ সদস্যের ছবি সরিয়ে দিয়ে শুধু আজহারুল ইসলামের ছবি রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলো অনলাইনে ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় হয়ে গেল সংসদ সদস্য আজহারুলের কার্যালয়’ এবং শুক্রবার ছাপা সংস্করণে ‘জেলা বিএনপর কার্যালয় এখন এমপির কার্যালয়’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসে। কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে কার্যালয়ের আগের পরিচয় ও অবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে আজ সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলামসহ বিএনপির অন্য নেতারা ছিলেন। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদসহ বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি।
নিজের বক্তব্যে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এমপি হিসেবে দলের বাইরে কোনো কাজ করতে রাজি নই। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই সিদ্ধান্তই মেনে চলব। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে সেই সিদ্ধান্ত মেনেই চলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে একচোখে দেখতে চাই। একজনকে ২০ টাকা আর আরেকজনকে ৫ পয়সা—এটা হবে না। আমি যেকোনো জায়গায় বসতে পারি, চায়ের দোকানেও মিটিং করতে পারি। আমার কোনো হাইফাই অফিসের দরকার নেই।’
সাইনবোর্ড অপসারণের প্রসঙ্গ টেনে আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা কে বা কারা সাইনবোর্ড খুলছেন, কী করছেন—আমি জানি না। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন। আমি বলেছি, আমি না। তখন প্রধানমন্ত্রী রেগে উঠে বলেছেন এমপি হয়েছেন, কী খবর রাখেন?’
জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অফিসটি জেলা বিএনপি কার্যালয় হিসেবে চালু করা হয়েছে। জেলা বিএনপির কার্যালয় হিসেবেই এটি থাকবে। এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।’