খুলনার খানজাহান আলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক মিজান, সদস্যসচিব আবু সাঈদ

আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান (বাঁ থেকে চতুর্থ) ও সদস্যসচিব আবু সাঈদ হাওলাদারকে (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) পরিচয় করিয়ে দেন শামীমুর রহমান (বাঁ থেকে তৃতীয়)
ছবি: প্রথম আলো

খুলনা খানজাহান আলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক পদে কাজী মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব পদে আবু সাঈদ হাওলাদার ওরফে আব্বাস নির্বাচিত হয়েছেন।

১৪ বছর পর খানজাহান আলী থানার আওতাধীন সাংগঠনিক ওয়ার্ডের কর্মিসভার মধ্য দিয়ে ওই থানায় নেতৃত্বের পরিবর্তন এল। তবে ওয়ার্ড নেতাদের ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও ওই দুই শীর্ষ পদে অন্য কোনো প্রার্থী অংশগ্রহণ না করায় তাঁদের দুজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

আজ সোমবার বিকেলে নগরের মিরেরডাঙ্গা ক্রীড়া চক্র মিলনায়তনে খানজাহান আলী থানা বিএনপির ওই কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্র জানায়, আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসার সভাপতিত্বে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিএনপির খানজাহান আলী থানা ইউনিটের আওতাধীন যোগীপোল ও আটরা-গিলাতলা ইউনিয়ন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটির ৩১ জন করে মোট ৯৩ জন ওয়ার্ড নেতা ভোটার ছিলেন। ৬ মে রাতে ওই দুই ইউনিয়ন ও একটি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

নগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ বছর খুলনা নগরে বিএনপির পাঁচটি সাংগঠনিক থানায় কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনা মহানগর বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের আগে থানার কমিটিগুলো করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল নগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় সম্মেলনের মাধ্যমে নগর বিএনপির ওই পাঁচ থানা ইউনিটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনায় পরে এতে সংশোধনী আনা হয়। সে অনুযায়ী, নগর বিএনপিতে যেহেতু আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে, তাই থানাগুলোয় আহ্বায়ক কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য কর্মিসভায় ভোটের মাধ্যমে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নির্বাচিত করা হচ্ছে।

প্রথম দফায় চার থানা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থানা সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোল্লা মাসুম রশিদকে গ্রেপ্তার ও পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা তৈরি না হওয়ায় ৬ মে থানা সম্মেলন স্থগিত করা হয়। পরদিন সম্মেলনের জন্য নতুন তারিখ ঘোষণা দেওয়া হয়।

আজ নির্বাচন প্রক্রিয়ার আগে অনুষ্ঠিত কর্মিসভায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সারা দেশের মানুষ উত্তাল হয়ে উঠেছে। জনগণের আক্রোশ থেকে এই সরকার আর রেহাই পাবে না। রাজপথ এখন বিএনপির দখলে। আওয়ামী লীগ যতই গর্জন করুক, কোনো লাভ হবে না। এবার তাদের পতন নিশ্চিত। নেতা–কর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে সরকার বিদায়ের জন্য সবাইকে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে কাজ করার আহ্বান জানান।

থানা সাংগঠনিক দলের প্রধান মাসুদ পারভেজের সভাপতিত্বে কর্মিসভার উদ্বোধন করেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম ওরফে মনা। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম। সভায় বক্তব্য দেন কাজী মিজানুর রহমান, আবু সাঈদ হাওলাদার, স ম আবদুর রহমান, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, নুরুল হাসান, কাজী মাহমুদ আলী, বদরুল আনাম খান, মাহাবুব হাসান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম, একরামুল হক, মাসুদ পারভেজ, শেখ সাদি, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন