সিলেটে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, অভিযোগ জামায়াতের
বিএনপির প্রার্থীরা একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। এ ছাড়া দলটি আরও অভিযোগ করেছে, দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে বিএনপি সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিনষ্টেও মেতে উঠেছে।
আজ সোমবার দুপুরে নগরের ধোপাদিঘিরপার এলাকায় সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতারা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নগরের স্কলার্সহোমের টিচার্স সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ সুরমার লতিফা শফি কলেজের শিক্ষক সম্মেলনেও সিলেট-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থীও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বক্তব্য দেন।
সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের পক্ষে গণজোয়ার দেখে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে জামায়াত। জামায়াতের পক্ষ হতে বলা হয়, বিএনপির প্রার্থীর ৮৪০ কোটি টাকা ঋণের তথ্য আড়াল করতেই ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঋণের অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন বিএনপি। প্রতিপক্ষ ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিনষ্টে মেতে উঠেছে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যদি ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তাহলে ১১-দলীয় ঐক্যের বিজয় হবে। এ জন্য প্রতিপক্ষ বন্ধুরা আবোলতাবোল বকছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঙ্গে হাবিবুর রহমানের কখনো কোনো যৌথ ব্যবসা ছিল না। এটি নিয়েও বিএনপি অপপ্রচার করছে।’
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সিলেট-৩ আসনে তাঁদের জোটের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দিন রাজুর রিকশা প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর স্ত্রীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সিলেটবাসীকে হতবাক করেছে। যা কোনোভাবে কাম্য নয়। বিএনপি পরিকল্পিতভাবে আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্র করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগেরও জবাব দেন মহানগর জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, আমরা নাকি কেন্দ্র দখলের ও টাকা দিয়ে ভোট কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দখল বাণিজ্য ও টাকা দিয়ে ভোট কারা কিনেন, সিলেটের মানুষ জানে। কেন্দ্র দখল ও টাকা দিয়ে ভোট কেনা আমাদের আদর্শ ও নৈতিকতার সঙ্গে যায় না। তারা নিজেদের নগদ লেনদেনের তথ্য আড়াল করতেই মিথ্যাচারে নেমেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত সিলেট মহানগরের নায়েবে আমির নূরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশামুল হক, সিলেট মহানগর আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজল, জেলার আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, এলডিপির সিলেট মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, এবি পার্টির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক মো. ওমর ফারুক, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ, বিডিপি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক কবির আহমদ, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেটের সবকটি আসনে দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজের সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত নিজেরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, মিথ্যাচার করছে। নিজেদের এসব মিথ্যাচারকে লঘু করতে এখন উল্টো বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার করছে।’