শাকসুসহ তিন ইস্যুতে ইসিতে ছাত্রদলের কর্মসূচি, প্রতিবাদে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

শাকসু নির্বাচন বানচালের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ। আজ রোববার দুপুরেছবি: আনিস মাহমুদ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনসহ তিন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি পালন করার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে।

আজ রোববার বেলা দুইটা থেকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কর্মসূচিতে প্রার্থীদের সমর্থক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আছেন। বিকেল চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন।

বিক্ষোভ চলাকালে ‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না, চলবে না’; ‘২০ তারিখে শাকসু, দিতে হবে, দিতে হবে’; ‘ঢাকায় বসে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’; ‘স্বৈরাচারের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’; ‘ষড়যন্ত্র করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’; ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বেলা ১১টার দিকে শাকসু নির্বাচনে ইসির প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদসহ তিনটি ইস্যুতে ঢাকায় ইসি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। শাকসু নির্বাচন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বলছে, শাকসু নির্বাচন নিয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এসব বিতর্কিত ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্রদল এ কর্মসূচি পালন করছে।

ছাত্রদলের কর্মসূচির প্রতিবাদে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করছিলাম ২০ তারিখে উৎসবমুখর পরিবেশে শাকসু নির্বাচন হবে। কিন্তু একটি মহল একদিকে শাকসুর পক্ষে কথা বলে আবার তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতারা শাকসু বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে, এটি দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা যথেষ্ট দুর্বলতা দেখিয়েছেন। এ জন্যই শাকসু আজ এই অবস্থায় এসেছে। বারবার বাধার মুখে পড়ছে। আপনারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ান এবং নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচন দিন।’

পরিবহন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে আমরা খবর পেয়েছি সকাল থেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছেন। শাকসু নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও একটি পক্ষ প্রথম থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে আমরা কোনো আপস করব না। ২০ তারিখে শাকসু আদায় করে ছাড়ব।’

আরও পড়ুন