রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা থেকে মাগুরা যাচ্ছেন তিনি। মনোয়ারা বলেন, বাস বন্ধের পাশাপাশি সড়কে ইজিবাইকও কম। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় পর্যন্ত এসেছেন। তবে পুলিশ গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছে। এখন হেঁটে সামনে এগিয়ে গাড়ি খোঁজার চেষ্টা করবেন।

ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আবদুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে বিএনপির গণসমাবেশ চলছে। সমাবেশস্থলে যাওয়ার জন্য ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও রাজবাড়ী রাস্তার মোড় অতিক্রম করতে হয়। এ জন্য ওই দুই এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার ফরিদপুর শহরে ঢোকা কিংবা শহর থেকে আশপাশের জেলায় যেতে হলে ওই দুই মোড়ের ব্যবহার করতে হয়। তবে পুলিশের দাবি, সমাবেশস্থলের আশপাশে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে এসব এলাকায় যান চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কোমরপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে তিনজন কৃষি শ্রমিকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। ওই তিন শ্রমিক ধান কাটার জন্য মাদারীপুরের শিবচরে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে তিন শ্রমিকের মধ্যে মো. নাজির কুষ্টিয়া ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা জাকির ও ইব্রাহীম রাজশাহী যাবেন। তবে বাস না পেয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। ভেঙে ভেঙে ফরিদপুর এসেছেন তাঁরা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়ে গেলে বাস পাওয়া যাবে বলে শুনেছেন। এখন ইজিবাইকে রাজবাড়ী যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যান চলাচলে বাধার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, সমাবেশস্থলটি মহাসড়কের পাশে। সেখানে যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়বেন। সমাবেশ নির্বিঘ্ন ও ওই এলাকা যানজটমুক্ত রাখতেই সমাবেশস্থলের আগেই গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।