শেরপুরে জামায়াত নেতাকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে: জেলা আমির
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খুব দ্রুত মামলা করা হবে। হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রশাসন যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনে, তাহলে জামায়াতে ইসলামী কঠোর আন্দোলনে যাবে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি হলে দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।’
গতকাল বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন রেজাউল করিম। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।
শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক উপল হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে যাবে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে ওঠার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েক শ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় দুই দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এরপর সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী শহরে দ্বিতীয় দফায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় দলের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় রেজাউল করিমকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন বলে জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রীবরদী উপজেলার গজরিপা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় রেজাউল করিমকে তারা ধরে ফেলে এবং পরে ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়।’
জামায়াতে ইসলামী শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন, এ ঘটনার পর নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে তিনি শঙ্কিত। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণও প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি বিএনপির পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি গজরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রেজাউল করিমের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে। পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে। মানুষ জড়ো হচ্ছেন তাঁর বাড়িতে। সবাই অপেক্ষায় আছেন মরদেহের। স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, ‘রেজাউল খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ। আমরা এর বিচার চাই।’