যশোরে বরফকল ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি অজ্ঞাত
যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত রানার বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে মনিরামপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি জেলার কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা। কপালিয়া বাজারে তাঁর একটি বরফ তৈরির কারখানা রয়েছে। কেশবপুরের কাটাখালী বাজারে তাঁর একটি মাছের আড়তও রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।
এদিকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে আজ সন্ধ্যায় কেশবপুর উপজেলার স্বরূপকাঠি মহাশ্মশানে রানা প্রতাপের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
রানা প্রতাপের বাবা তুষার কান্তি অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তিনি বলেন, ‘রানার কোনো শত্রু ছিল না। তাকে হত্যার কোনো কোনো কারণ আমি পাচ্ছি না। কোনো স্বার্থগত কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে আমি জানি না, কী কারণে এবং কেন তাকে এমন পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হলো। আমি মামলা করেছি। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী কপালিয়া বাজারে তাঁর বরফকলে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাঁকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের গলিতে নিয়ে যায়। এরপর খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় তিনটি গুলি করে এবং গলা কেটে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তবে তাদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার কারণ উল্লেখ করা হয়নি। হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, রানা প্রতাপ একসময় চরমপন্থী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১০–১২ বছর আগে একটি মামলায় তিনি কয়েক মাস কারাভোগ করেন। কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভয়নগর ও কেশবপুর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।