খুলনায় যৌথ অভিযানের মধ্যেও সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র, আতঙ্কে বন্ধ এক মার্কেটের দোকানপাট
খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে চলমান বিশেষ যৌথ অভিযানের মধ্যে নগরের শেখপাড়ার নজরুল নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ইসমাইল আয়রন মার্কেটের দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘বি কোম্পানি’–এর সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করলেও আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল।
ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন মার্কেটের দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তবে আতঙ্কের কারণে অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলতে সাহস পাননি।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ ওরফে রনি চৌধুরীর ‘বি কোম্পানি’র সহযোগী হিসেবে পরিচিত লিটন মীর ওরফে কসাই লিটন এলাকায় নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। গত শুক্রবার ডিবি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ‘বি কোম্পানি’র নতুন একটি গ্রুপ ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, কসাই লিটনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও অন্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে ‘বি কোম্পানি’ নামের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কসাই লিটন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’ নামে পরিচিত রনি চৌধুরীর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। সর্বশেষ ঈদুল আজহাতেও তিনি ‘বি কোম্পানি’র ব্যানারে মাংস বিতরণে অংশ নিয়েছিলেন।
আজ দুপুর ১২টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার শেখপাড়ার ইসমাইল আয়রন মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের অধিকাংশ দোকান বন্ধ। মার্কেটের পাশে দুজন পুলিশ সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়। সেখানে এক দোকানদার বলেন, ‘আমাদের একটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যা মিটে গেলে দোকান খোলা হবে।’
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছি। সেখানে পুলিশের দুটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। দোকান খুলতে শুরু করেছে। যেগুলো এখনো খোলেনি, তাদের অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না—তা দেখা হবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
বিশেষ যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার আরও ১১
খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত ৮ দিনে যৌথ অভিযানে মোট ৪২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ কেএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা থানায় তিনজন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একজন, লবণচরা থানায় একজন, হরিণটানা থানায় একজন, খালিশপুর থানায় দুজন, দৌলতপুর থানায় একজন, আড়ংঘাটায় একজন এবং খানজাহান আলী থানায় একজন আছেন। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করে কেএমপি। তবে নগরজুড়ে বিশেষ যৌথ অভিযানে একের পর এক গ্রেপ্তার হলেও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে অভিযোগ আছে। শেখপাড়ার ইসমাইল আয়রন মার্কেটে দোকানপাট বন্ধের ঘটনাকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।