স্বেচ্ছাসেবক লীগের এ ঘোষণায় শহরের সাতমাথা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের এ ঘোষণার পর সাতমাথা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয়ও আছে। তিন দিন ধরে আমরা সেখানে ঢুকতে পারছি না। আমরা আজ বেলা ৩টায় কার্যালয়ে কর্মিসভা ডেকেছি। তালা খুলে আমরা কর্মিসভা করব। তবে ছাত্রলীগের সদ্যঘোষিত কমিটির কেউ আমাদের সঙ্গে থাকবে না।’

বগুড়া সদর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, চার দিন ধরে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত একাংশ বিক্ষোভ করছে। আজ বেলা ৩টায় সেখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ তালা খুলে কার্যালয়ে ঢোকার ঘোষণা দিয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় পুলিশও সতর্কাবস্থায় আছে।

নতুন কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া তৌহিদুর রহমান সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। বিতর্কিত কমিটি বাতিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ তালা খুলে ভেতরে কর্মিসভার যে ঘোষণা দিয়েছে, এ বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থান পরে জানাব।’

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সদ্যঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পদবঞ্চিত নেতা ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বৃহস্পতিবার জরুরি সভা ডেকেছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে দলীয় কার্যালয়ের বদলে আজ সকাল ১০টায় এ সভা শুরু হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাসভবনে, যা আজ দুপুর সোয়া দুইটা পর্যন্ত চলছিল।

এর আগে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলন ছাড়াই সাত বছর পর ঘোষিত এ কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের নাম আছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই শহরের টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ওই ভবনে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ওই ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।