কুমিল্লায় লরিচাপায় একই পরিবারের চার সদস্যের নিহত হওয়ার ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটি জব্দ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। তবে বাসটির চালককে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া জেলার দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর এলাকায় অবস্থিত মানামা হোটেলের সামনের একটি মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। ময়নামতি হাইওয়ে থানা–পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডসংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নে একই পরিবারের চারজন নিহত হন।
গত শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডসংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন থেকে ইউটার্ন দিয়ে ঢাকামুখী লেনে প্রবেশের সময় একটি প্রাইভেট কারের ওপর উল্টে পড়ে একটি লরি। এতে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। ঢাকামুখী লেনে উল্টো পথে হানিফ পরিবহনের একটি বাস হোটেল নুরজাহান থেকে আসার কারণে লরিচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারের ওপর উল্টে পড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের উমর আলী (৮০), তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে আবুল হাসেম (৫০) এবং আরেক ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। এর মধ্যে ব্যাংকার আবুল হাসেম প্রাইভেট কারের চালকের আসনে ছিলেন। বাবা-মায়ের চিকিৎসা শেষে তাঁদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন দুই ভাই।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম সড়ক পরিবহন আইনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় লরি ও উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহন বাসের চালকদের আসামি করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ঘটনার পর শুক্রবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাইভেট কারটি সঠিক লেনে থেকেই ইউটার্ন করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটি শনাক্ত করি। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলার কারণেই সিমেন্টবোঝাই লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারের ওপর উল্টে পড়ে। বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’