বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা উন্নয়নকাজের জন্য ২০১৮ সালে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৪টি স্থাপনার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে চলতি বছরের ৮ জুন। এই ১৪টি স্থাপনার মধ্যে মেয়েদের খেলার মাঠ একটি।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের পাশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে মেয়েদের এই খেলার মাঠ। মাঠ নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে সাইন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

আজ শনিবার বিকেলে খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের কেটে রেখে যাওয়া গাছগুলো পড়ে আছে। নানা ধরনের পাখি চেঁচামেচি করছে। এদিক–সেদিক ছোটাছুটি করছে গুঁইসাপগুলো।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমর্ত্য রায় প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার বন্ধের দিন যে যার মতো বিশ্রাম নিচ্ছে, ঠিক এই সময়ে গাছ কাটা শুরু করেছে প্রশাসন। এর আগেও এ রকম লুকোচুরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটা হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, পূর্ণাঙ্গ মহাপরিকল্পনা করে তারপর কাজ শুরু করেন। কিন্তু প্রশাসনের স্বৈরাচারের মতো কারও কথা না শুনে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী পরিকল্পনা ছাড়াই গাছ কেটে চলেছে। এটি অমানবিক।’

জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাছির উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ধরেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানে মেয়েদের খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। সে জন্য প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছ কেটে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।