জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তানভীর ভূঞা প্রথম আলোকে বলেন, দুই বিচারককে বদলিসহ নাজিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখনো পূরণ হয়নি। আজ দুপুরে আইনজীবী সমিতির ভবনে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনজীবীদের ৬ কার্যদিবস কর্মবিরতি ও ৪ জানুয়ারি বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতির কারণে জেলার প্রায় দেড় লাখ বিচারপ্রার্থী দুর্ভোগে পড়েন। বিচার পেতে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে আসেন ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ।
বিজয়নগর থেকে বিচারপ্রার্থী হাজেরা বেগম বলেন, ‘জেলা জজ কোর্টে আমার মামলা চলছে। আজ নিয়ে তিন দিন কোর্টে (আদালতে) এসেছি। তবে আজকেও কোনো কাজ হলো না। কোর্টে আসতে-যেতে তো আমার অনেক টাকা খরচ হয়।’

নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের হরাধান দাস বলেন, ‘আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে আমার মামলাটি চলছে। কিন্তু এই মাসে তো আদালত হয়নি। না জানি মামলার কী হয়!’

শীতকালীন ছুটির আগে ১ ডিসেম্বর আদালতের শেষ কার্যদিবস ছিল। ওই দিন তিনটি মামলা না নেওয়ায় ১ জানুয়ারি বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। এরপর ২ জানুয়ারি বিচারক মোহাম্মদ ফারুকের সঙ্গে আইনজীবীদের বাদানুবাদের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ জানুয়ারি আইনজীবীরা তিন কার্যদিবসের কর্মবিরতির ডাক দেন। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ছয় কার্যদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। এর আগে ৪ জানুয়ারি এক দিনের কর্মবিরতি পালন করে জেলা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। এতে আদালতে অচলাবস্থার তৈরি হয়।