মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকার আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সমাবেশে আসার পথে সরকারি ইন্ধনে মামলার বিবাদীরা বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা দেন। একপর্যায়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী সমবেত হলে আসামিরা নিজেদের আইনগত দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা ভুলে গিয়ে হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারতে শুরু করে। এরপর বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিবির এসআই মাহফুজুর রহমান তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করলে যুবদল কর্মী শাওন লুটিয়ে পড়েন। বিবাদীরা এলোপাতাড়ি গুলি, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়লে ছাত্রদল নেতা ফারুক আহম্মেদের বুক ঝাঁজরা হয়। তাঁর অবস্থায় এখনো আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া আরও প্রায় ২০০ নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এটা স্পষ্ট যে বিবাদীরা হত্যার উদ্দেশ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন, যা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি থেকে স্পষ্ট।

মামলার আবেদনে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেনসহ ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আদালতে মামলার আবেদন শেষে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা চরম অন্যায় করা হয়েছে। সংবিধানে এখনো যতটুকু গণতন্ত্রের অধিকার দেওয়া আছে, তাতে সমাবেশ ও র‍্যালি করার অধিকার আছে। সেই অধিকারটুকুও তারা হরণ করেছে। এটি যে আমরা বারবার বলি, সেটার প্রমাণ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে ১ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনা। গণতন্ত্রে যে অধিকারগুলো দেওয়া আছে, তারা পুরোটাই রাখতে চায় না। আমরা বলেছি, একদলীয় সরকারের যে নমুনা, সেটার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ সেদিন ঘটেছে এখানে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন