এনসিপির রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা

এনসিপির লোগো

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর এবং ২৯ নভেম্বর রাজশাহী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় উভয় কমিটির সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর ১১৪ সদস্যবিশিষ্ট এনসিপির রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও রনিউর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরদিন যুগ্ম সদস্যসচিব জিহান মোবারক সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন। এরপর ১ ডিসেম্বর কমিটির আহ্বায়ককে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে আরও পাঁচ সদস্য কমিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের কথা জানান।

সেদিন বিকেলে এনসিপির জেলা কমিটি নিজেদের পরিচিত সভায় সাংবাদিকদের ডাকেন। পর্যটন মোটেলে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে আহ্বায়কের পদত্যাগের দাবিতে বাইরে আরেকটি পক্ষ বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির জাতীয় যুবশক্তির মহানগরের দুই নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের কক্ষে তালা মেরে আটকে রাখার হুমকি দেন। ওই ঘটনার পর সাংবাদিকেরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুন

পরে ৩ ডিসেম্বর রাতে কমিটি বাতিলের দাবিতে মহানগর এনসিপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ আটজনকে তালা কেটে বের করা হয়। রাজশাহী মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী বলে আসছেন, জেলা কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগের দাবিটি যৌক্তিক। তিনি প্রায় ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দিতে থাকেন।

তবে রাজশাহী জেলা এনসিপির কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, আওয়ামী লীগে তাঁর কোনো পদ ছিল না। কোনো পদ না থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা আছে বলে বলা যাবে না।

আরও পড়ুন

এ ব্যাপারে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী বলেন, জেলা কমিটিতে আওয়ামী লীগের দোসর রয়েছে। কমিটি হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে সমালোচনা করে আসছিলেন। সেই কমিটির বিপক্ষে কথা বলায় কমিটি বাতিল করেছে। আজও তিনি ফেসবুকে জেলা কমিটি নিয়ে কথা বলেছেন। এখন যেহেতু কার্যক্রম করতে না করেছে, তাই দলীয় ব্যানারে তাঁরা কিছু করবেন না।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন