বেলা একটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর থেকে আড়াইহাজারের ছনপাড়া পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি তল্লাশিচৌকি দেখা গেছে। এসব চৌকিতে দূরপাল্লার বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। কোনো যাত্রীকে তল্লাশি করতে দেখা যায়নি।

ঢাকা-হবিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যমুনা পরিবহনপর বাসচালক মো. ইব্রাহীম প্রথম আলোকে বলেন, হবিগঞ্জ থেকে রূপগঞ্জের ভুলতা পর্যন্ত তিন জায়গায় তাঁর বাসের কাগজ যাচাই করা হয়েছে। তবে কোথাও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

এ সময় ভুলতা উড়ালসড়ক এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল দেখা গেছে। মিছিল থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রুটিনমাফিক তল্লাশি চালাচ্ছি। তবে ঢাকায় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের তৎপরতা ও সতর্কতা বেড়েছে।’

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা–পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকিতে সন্দেহজনক যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫টি বাস, ৪টি প্রাইভেট কার ও বেশ কিছু মোটরসাইকেল থামিয়ে সেগুলোর কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও প্রাইভেট কারের ভেতর তল্লাশি চালাতে দেখা যায়।

পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। তবে যাত্রী হয়রানি যেন না হয়, সে বিষয়ও খেয়াল রাখছি। কোনো যানবাহনে বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করা হচ্ছে কি না, তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, সেগুলো দেখা হচ্ছে।’

দুপুর ১২টায় মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পূর্ব পাশে সোনারগাঁ থানার পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকি দেখা গেছে। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তিনটি মোটরসাইকেলের কাগজ তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া সড়কের উত্তর পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের একটি দলকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে তারা কোনো যানবাহনে তল্লাশি চালায়নি।

অন্যান্য দিনের তুলনায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল কম বলে অভিযোগ করছেন গোলাম হাক্কানী নামের এক যাত্রী। তিনি তিশা পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার যাচ্ছিলেন। দুপুরে তিনি প্রথম আলোকে তিনি বলেন, কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসতে গিয়ে তাঁকে বাসসংকটে পড়তে হয়েছে। দাউদকান্দি এলাকার একটি তল্লাশিচৌকিতে তার ঢাকায় আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোনারগাঁ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের অন্তত পাঁচটি দলকে মহাসড়কে টহল দিতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘বরাবরের মতোই আমরা জেলাজুড়ে সতর্ক অবস্থানে আছি। চেকপোস্টগুলোয় রুটিন মাফিক তল্লাশি চলছে। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকিয়ে দিতে পুলিশের তৎপরতা আছে।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

যে হাত দিয়ে মারতে আসবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে: শেখ হাসিনা

নয়াপল্টন ‘ক্রাইম জোন’ চিহ্নিত, সাংবাদিকদেরও যেতে দিচ্ছে না পুলিশ

‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে সব সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে সরকার’

খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে স্লোগান, ধাওয়া দিয়ে আটক ৪