মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নিলক্ষিয়া আবদুস ছালাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত বুধবার সন্ধ্যায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় জেলার নেতাদের সামনে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে সাইফুলকে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বুধবার উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন ছিল। সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও তাঁর ছোট ভাই মো. নজরুল ইসলাম সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি দেওয়ার কথা বলেন এবং ওই কমিটিতে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য সাইফুলকে চাপ দেন। কিন্তু সাইফুল রাজি না হওয়ায় নুর মোহাম্মদ ক্ষুব্ধ হয়ে দলের নেতাদের  সামনে একটি কাচের গ্লাস সাইফুলকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন। তবে সাইফুল মাথা সরিয়ে নিলে গ্লাসটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘরের দেয়ালে লাগে। পরে সাইফুলের শার্টের কলার ধরে নুর মোহাম্মদের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে সাইফুলকে লাথি মারেন নুর মোহাম্মদ। পরে দুই ভাই মিলে সাইফুলকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করেন।

সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শুধু একজন নেতাই নয়, আমি একজন শিক্ষকও। দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে সবার সামনে আমাকে মারধর করা হলো। অথচ অন্যায়ভাবে কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনেই, আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা কেমন বিচার! ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ করে, এটা প্রাপ্য ছিল? প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে—বকশীগঞ্জ ঢুকতে দেবে না, যেখানে পাবে, সেখানেই মারধর করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে নুর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আর সাইফুল ইসলাম ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতাদের কাছ থেকে দলের পদ নেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। সেই বিষয়ে থানায় অনেকেই অভিযোগ দিচ্ছেন এবং গত বৃহস্পতিবার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়েছে।’

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সাইফুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় নুর মোহাম্মদ ও নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতানামা আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

এদিকে গত বুধবার ওই ঘটনার পর পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাইফুল ইসলামকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সাইফুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সাত দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।