সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে নামছে পাহাড়ি ঢল

বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে সুরমা নদীর পানি আরও বেড়েছে। সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর রিভারভিউ এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। সেই সঙ্গে নামছে উজানের পাহাড়ি ঢল। জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপরে আছে। নদ–নদীতে পানি বাড়ছে। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় যাতায়াতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলা শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও দিরাই উপজেলার মারকুলি এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। ওই দুই স্থানের বিপৎসীমা যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭০ মিটার ও ৬ দশমিক ৫৫ মিটার। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টের সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এখানে সোমবার সকাল নয়টায় পানি উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার। রোববার সকালে একই স্থানে এখানে পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৪০ মিটারে। রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ৭৫ মিলিমিটার।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৬৮ সেন্টিমিটার। এখানে আজ সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৮ মিটার। একই পয়েন্টে রোববার সকালে পানি ছিল ৭ দশমিক ৩২ মিটার। এ ছাড়া ছাতক উপজেলা শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে, জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে পানি বেড়েছে ৯ সেন্টিমিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা ও দুর্গাপুর এলাকার সড়ক আবারও প্লাবিত হয়েছে। ওই স্থান ঢলের পানি ভাটিতে নামার সুবিধার্থে নিচু করেই নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে পাহাড়ি ঢল নামলেই ওই অংশটুকু প্লাবিত হয়। গত এক সপ্তাহে ওই স্থান দুইবার প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার ডুলরা-ইব্রাহিমপুর সড়কটি প্লাবিত হওয়ায় সীমান্ত এলাকা থেকে জেলা শহরে যাতায়াতকারী লোকজন ভোগান্তিতে পড়েছেন। ওই সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ পরিস্থিতিতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের বলেন, সীমান্ত এলাকার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মানুষজন কৃষ্ণনগর, সৈয়দপুর-ইব্রাহিমপুর সড়ক হয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। এই সড়কের কয়েকটি স্থান প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জে আগামী ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

প্লাবিত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ইব্রাহিমপুর-সৈয়দপুর সড়কে
ছবি: প্রথম আলো

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন বলে জানান সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে করণীয় ও প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, জিআর চাল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন