ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশ থেকে গত ছয় মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সাভার মডেল থানার পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিউর ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আজ সোমবার সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আজ সাভার মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারের পর মশিউর পুলিশের কাছে তাঁর বাড়ি সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনিতে বলেছিলেন। তবে ব্রিফিংয়ে আরাফাতুল ইসলাম জানান, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক কলোনি এলাকায় গিয়ে তাঁর ঠিকানা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তিনি ভবঘুরের মতো চলাফেরা করেন, সেহেতু তাঁকে আমরা ভবঘুরে হিসেবেই জানি। মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো কিছু, কোনো সাইন–সিম্পটম জিজ্ঞাসাবাদে আমরা পাইনি।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছিল। পৌরসভার সহায়তায় কমিউনিটি সেন্টারটি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সম্প্রতি সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গতকাল রোববার কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে পোড়া অবস্থায় দুজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে মশিউরের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখা যায়। অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গতকালের দুটিসহ মোট ছয়টি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গত পাঁচ মাসে পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে সাভার মডেল মসজিদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয়ই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিটি ঘটনার পর আইন অনুযায়ী পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সর্বপ্রথম গত বছরের ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারটির দ্বিতীয় তলা থেকে হাত বাঁধা ও অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (৩০) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১১ অক্টোবর ভবনটির দ্বিতীয় তলার বাথরুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (৩০) এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর ভবনটি থেকে আবারও অজ্ঞাতনামা (৩৫) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গতকাল ভবনটি থেকে অজ্ঞাতনামা ১৩ ও ২৫ বছর বয়সী দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।