এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলায় সিরাজ গুরুতর আহত হন। পরে সিরাজকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হলে তাঁকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সিরাজের পরিবারের অভিযোগ, ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবারের লোকজন সিরাজকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

এ ঘটনার পর থেকে ইব্রাহীমের স্ত্রী ফিরোজা বেগম, মেয়ে মদিনা আক্তার, জামাতা শামসুল মিয়া, ছেলে হোসেন খন্দকার ও শাহেদ খন্দকার গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, গতকাল সকালে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। তবে এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ইব্রাহীমের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে আজ ভোরে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বথুয়াদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ইব্রাহীমকে আটক করে শিবপুর থানায় নেওয়া হয়।

ওসি সালাউদ্দিন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা এখনো নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। নিহতের স্ত্রী মোসলেমা বেগমের চিকিৎসা নিয়ে তাঁরা ঢাকায় ব্যস্ত আছেন। তবে আজই থানায় এসে মামলা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। মামলা হলে আটক ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সিরাজের সঙ্গে ইব্রাহীমের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে কয়েকটি মামলাও চলমান। এ ছাড়া অনেক সালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সম্প্রতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন সিরাজ। ওই মামলাসংক্রান্ত একটি কাগজ গতকাল সকালে ইব্রাহীমের বাড়িতে আসে। ওই কাগজ হাতে পাওয়ার পরপরই উত্তেজিত হয়ে পড়েন ইব্রাহীম। এ সময় তাঁর স্ত্রী ফিরোজা বেগম, মেয়ে মদিনা আক্তার, জামাতা শামসুল মিয়া, ছেলে হোসেন খন্দকার ও শাহেদ খন্দকারও ক্ষিপ্ত হন। তাঁরা সবাই হাতে শাবল ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সিরাজের মুরগির খামারে গিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি পেটান। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সিরাজ। মারধরে বাধা দিতে গেলে সিরাজের স্ত্রী মোসলেমা বেগমকে উপর্যুপরি পিটিয়ে আহত করা হয়।