শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেলা ১১টার দিকে নিহত ব্যক্তির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জামালী। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির মাথার পেছন দিকে থেঁতলানো অবস্থা দেখা গেছে। এ ছাড়া তাঁর কপাল ও নাকে আঘাতের চিহ্ন আছে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিহত রেজাউল করিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ এন এম আল মামুন। আঘাতের কারণে মৃত্যুর কথা জানালেও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা যাবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক চেয়ারে বসা নিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অনেকে আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ও শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।
আজ মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন নিহত রেজাউলের ছোট ভাই ও শ্রীবরদী মথুরাধি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ শ্রীবরদীতে নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিকেল পাঁচটায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা ও নিজ গ্রাম গোপালখিলা স্কুলের খেলার মাঠে রাত সাড়ে আটটায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতীতে সংঘাতের ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মোট তিনজন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে জামায়াতের দুজন ও বিএনপির একজন নেতা। তাঁরা হলেন শ্রীবরদী পৌর জামায়াতের আমির মো. তাহেরুন ইসলাম ও জামায়াতের কর্মী আমিরুল ইসলাম এবং মো. সুজাউদ্দৌলা নামের ঝিনাইগাতীর একটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনজনের শরীরে ইটের আঘাত আছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাঈনউদ্দিন খান বলেন, তিনজনের মধ্যে একজন রোগীর মাথায় আঘাত থাকায় ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাকি দুজনের অবস্থা স্বাভাবিক।