খুলনায় বিশেষ যৌথ অভিযানে বি-কোম্পানির সদস্যসহ গ্রেপ্তার আরও ১৭
খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে যৌথ অভিযানে মোট ৫৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আজ খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়। নগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক মামলার আসামি আছে।
কেএমপি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বিশেষ অভিযানে ১৩ মামলার আসামিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার পুলিশ জানায়, গতকাল বিশেষ অভিযান চালিয়ে বয়রা মার্কেট ক্রস রোড এলাকার একটি ফাঁকা জায়গা থেকে ১৩ মামলার আসামি মিলন হোসেনকে (৩৮) গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খালিশপুর থানার বড় বয়রা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাইসহ মোট ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
বি-কোম্পানির সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার
খুলনার আলোচিত বি-কোম্পানির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিল্লু ও তাঁর সহযোগী খুলনা মহানগরের আড়ংঘাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পরে বিল্লুর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা আলামত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, খুলনার কুখ্যাত বি-কোম্পানির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিল্লু। তাঁর বিরুদ্ধে আড়ংঘাটা ও হরিণটানা থানায় অস্ত্র আইন, হত্যাচেষ্টা মামলাসহ চারটি মামলার তথ্য আছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা করে গ্রেপ্তার দুজনকে উদ্ধার করা আলামতসহ আড়ংঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ-জনতার মতবিনিময় সভা
খুলনা থানা ও লবণচরা থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে এলাকাবাসীর সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম টুটপাড়া ও ময়ূরবাড়ি খালপাড় এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান। এ সময় এলাকাভিত্তিক মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা), খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), লবণচরা থানার ওসি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে মহানগর পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল নজরদারি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।