চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের কর্মীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপির ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে জামায়াতের কর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আটজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত হাফিজুরের বড় ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে গত রোববার রাতে জীবননগর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় জীবননগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দীনকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তাঁর তিন ভাই ইমরান হোসেন, মো. বাপ্পা ও মো. তৌফিক এবং তাঁদের বাবা জসিম উদ্দিন ছাড়াও মো. তুষার ও শাহীন রেজাকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার হাসাদহ এলাকায়। ওই এলাকায় গত শনিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সি) সোলায়মান শেখ মঙ্গলবার দুপুরে জানান, এজাহারনামীয় মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসিম উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার তিনজন বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বন্দী। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
এদিকে মামলায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ময়েন উদ্দীনকে হুকুমের আসামি করায় নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান। তিনি দাবি করেন, হাসাদহ বাজারে সংঘর্ষের অন্তত দেড় ঘণ্টা পর ময়েন উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান এবং দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইনটেনশনালি ময়েন উদ্দীনকে আসামি করেছে। সংঘর্ষে আমাদের দলীয় লোকজনও গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত নেতাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
হত্যা মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁর ভাই মফিজুর রহমানের (ইউনিয়ন জামায়াতের আমির) সঙ্গে আসামিদের শত্রুতা চলে আসছে। আসামিরা প্রায়ই মফিজুর রহমানকে হত্যা-জখমের হুমকি দিতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বাদীর ছেলে মাহফুজুর রহমান, দুই ভাই মফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমান হাসাদহ বাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে ইফতার শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে হাসাদহ কামিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিরা জিআই পাইপ, লোহার রড, চায়নিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের গতি রোধ করে হামলা করেন। আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে মফিজুর রহমান দৌড়ে পালানোর সময় আসামি ময়েন উদ্দীনের হুকুমে ইমরান হোসেন তাঁর হাতে থাকা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি কোপান। মফিজুর জীবন বাঁচাতে চিৎকার দিলে হাফিজুর ঠেকাতে গেলে মেহেদী হাসান চায়নিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর (হাফিজুরের) বাঁ চোখের ভ্রুর ওপর কোপ মেরে গুরুতর জখম করেন। এ সময় আসামি বাপ্পা ও তৌফিক রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাদীর ছেলে মাহফুজুর রহমান এগিয়ে গেলে আসামি তুষার ও শাহীন রেজা লোহার রড দিয়ে পেটান। এতে তিনজনই গুরুতর জখম হন। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি লোকজন ছুটে এসে আহত তিনজনকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকেই যশোরে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। বর্তমানে মফিজুর রহমান ও মাহফুজুর রহমান ঢাকার পৃথক দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।