এর আগে গত ২৮ অক্টোবর সকালে কিশোরের বড় ভাই আবদুল্লাহ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পলাশ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, ২৩ অক্টোবর সকাল থেকে ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত চার দিন আসিফকে একটি মুরগির খামারে আটকে রেখে নির্যাতন করেন সুলতান ও নাসির। এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রোববার রাতে প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে 'কিশোরকে চার দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকালে লিখিত অভিযোগটি মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার বলছে, তাঁরা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। খুব কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আসিফ সবার ছোট। সে সরকারচর গ্রামের সুলতান মিয়ার মুরগির খামারে সাত হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি নেয়। গত ২৩ অক্টোবর সকালে মুরগির খামারটির মালিক সুলতান মিয়ার ছোট ভাই নাছির মিয়া খামারে আসেন। এসে তিনি খামারের পাশের ঘরের চৌকিতে মুরগির বিষ্ঠা পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আসিফকে ডেকে উপর্যুপরি চড়থাপ্পড় মারেন। বিভিন্ন কায়দায় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। এভাবে চার দিন ধরে তাকে ওই ঘরেই আটকে রাখেন তাঁরা। ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কৌশলে সে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। এরপরই তাকে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদী আবদুল্লাহ বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই সুলতান ও তাঁর ভাই নাছির বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। অভিযোগ তুলে না নিলে আমাদের দুই ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের গ্রেপ্তার করায় আমরা খুশি। আমার ভাইকে যারা নির্যাতন করেছেন, তাঁদের বিচার চাই।’

জানতে চাইলে পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, পুলিশি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গতকাল সকালে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। পরে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।