প্রভাষ চন্দ্র রায় ও নীলা রানী রায় দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে লিমন ছিলেন সবার বড়। সম্বল বলতে বাড়ির চার শতক জমি। প্রভাষ কখনো রিকশা চালিয়ে আবার কখনো কৃষিশ্রমিকের কাজ করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাতেন।

গতকাল লিমনের মৃত্যুর খবর আসায় শোকের ছায়া নামে পরিবারে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। মা–বাবা, ভাই-বোনসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। মেধাবী ওই সন্তান হারোনোর শোক যেন কোনোভাবেই সইতে পারছেন না তাঁর পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী।
গত মঙ্গলবার (মৃত্যুর আগের দিন) সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে লিমনের শেষ কথা হয়। মা নীলা রানী কুশল জানতে চাইলে লিমন বলেছিলেন, ‘মা আমার গলা বারবার শুকিয়ে যাচ্ছে। কেমন ভয় ভয় লাগছে।’ মা তাঁকে শরবত খাওয়া এবং চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাবা মুই পরে কথা কইম, এলা গরু-ছাগল ঘরোত ঢুকাছো।’ ছেলের সঙ্গে শেষ কথার স্মৃতিচারণা করে আহাজারি করছিলেন নীলা রানী।

লিমনের বাবা প্রভাষ চন্দ্র রায় ছেলের মৃত্যুর খবরে ছুটে যান ঢাকায়। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘ছেলে কইছিল লেখাপড়া শিখে শিক্ষক হবে। অনেক কষ্ট করিও তার আবদার পূরণ করার চেষ্টা করিছু। ভাবিছিনি ছেলে বড় হইলে সংসারের হাল ধরিবে, মোর কষ্ট কমিবে। কিন্তু মোর সে আশা আর পূরণ হইল না।’

প্রতিবেশীরা জানান, লিমন কুমার ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছিলেন। গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এইচএসসিতে ভর্তি হন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। সেখানে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির। তার ছোট ভাই সুমন রায় দশম এবং সবার ছোট বোন অর্পিতা রায় পড়ছে পঞ্চম শ্রেণিতে। মা নীলা রানী রায় গৃহিণী।

লিমন কুমার রায়ের কাকা নারায়ণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লিমন কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। কারণ, সে নিজে মানুষকে আত্মহত্যা না করার পরামর্শ দিত।’