কারাগার
প্রতীকী ছবি

বান্দরবানের ঘুমধুম থেকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়ার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় গতকাল মঙ্গলবার এই দুজনসহ পলাতক আরও চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) গোলাম মেহেদি মামলাটি করেছেন বলে আজ বুধবার তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

জঙ্গি সংগঠন শারক্কীয়ার সামরিক প্রশিক্ষণের ভিডিও নিয়ে যা বলল র‌্যাব

মামলার এজাহারে পাহাড়ে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফের) প্রশিক্ষণ ছাউনিতে আসামিরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার ভিডিওচিত্রে কেএনএফের একজন প্রশিক্ষককেও দেখা গেছে। কিন্তু মামলার এজাহারে কেএনএফের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার সকাল ছয়টার দিকে উখিয়াসংলগ্ন ঘুমধুমের পাহাড়পাড়া এলাকার একাশিয়া বাগানে র‌্যাব অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা নয়টি গুলি ছোড়ে। সেখানে শারক্কীয়ার সামরিক শাখার প্রধান সিলেটের মাসুকুর রহমান ওরফে রনবির(৪৪) ও সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাদারীপুরের আবুল বাশার মৃধা ওরফে আলমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১১টি গুলিসহ শুটারগান দুটি, ১২টি গুলিসহ একটি পিস্তল, সিমবিহীন মুঠোফোন সেট একটি (যেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণের ভিডিওচিত্র ছিল), আড়াই লাখের বেশি টাকা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

বান্দরবানে কেএনএফ ও ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত নয় পাঁচ জনগোষ্ঠী

ঘুমধুমের পাহাড়পাড়া একাশিয়া বাগান এলাকাটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে এবং উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের কাছাকাছি।

বান্দরবানের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবদুল মজিদ বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের আদেশে তাঁদের বান্দরবান জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া চারজন হলেন শারক্কীয়ার সুরা সদস্য ও সমতলের সমন্বয়ক মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব (৩২), মোহাম্মদ মাফুজুর রহমান ওরফে বিজয় (৩০), ছোট রক্সি ওরফে বাটা রক্সি (৩৫) ও সাকিব (৪০)। তাঁরা সবাই বান্দরবানের গহীন অরণ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ, কনকনে শীতে গৃহহীন রোহিঙ্গাদের অমানবিক জীবন

এজাহারে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে শারক্কীয়ার আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ, শায়েখ দাদু ভাই ওরফে শায়েখ আবদুল্লাহ মায়মুন, শামীম মাফুজ ওরফে স্যার পলাতক আছেন। তাঁদের নির্দেশে সংগঠনকে পুনরায় সংগঠিত করতে এবং পাহাড় থেকে পালিয়ে আসা জঙ্গিদের আশ্রয় দিতে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আশপাশে গ্রেপ্তার দুজন ও পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিরা অবস্থান করছিলেন।

আরও পড়ুন

কাশিমপুর কারাগারে হামলার লক্ষ্য ছিল জঙ্গিদের

গত ৯ অক্টোবর থেকে র‍্যাব ও সেনাবাহিনী বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার দুর্গমে এবং রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। মিয়ানমারের সীমান্তের কাছাকাছি ওই এলাকাগুলোতে গোপন আস্তানায় শারক্কীয়ার জঙ্গিদের কেএনএফ সদস্যরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়। গত ২০ অক্টোবর সেখান থেকে সাতজন শারক্কীয়া জঙ্গি ও ৩ জন কেএনএফ সদস্য, ১১ জানুয়ারি আরও ৫ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার ও পলাতক সদস্যসহ শারক্কীয়া জঙ্গিপ্রধান, কেএনএফ–প্রধানের বিরুদ্ধে রাঙামাটিতে দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নাইক্ষ্যংছড়িতে করা মামলায় শুধু শারক্কীয়া জঙ্গিদের আসামি করা হয়েছে।