মামলার আসামিরা হলেন শহরের পেশকারপাড়া এলাকার আবদুল্লাহ খান (২৭), রমজান আলী (৩০), আবদুল্লাহ আহাদ ওরফে ছোটন (২৪), ছৈয়দ আকবর (৩৩), মুন্না প্রকাশ ওরফে কালা মুন্না (২৮), মো. সানি (২৭), মো. জুয়েল প্রকাশ ওরফে ফরহাদ (২৪) ও মো. তৌহিদ (২৫)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ আসামিদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপন করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গতকাল পেশকারপাড়ার ওয়াসিম (২২) ও মিজান (১৯) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার থেকে জানা গেছে, পেশকারপাড়া এলাকার খাইরুল আহমদের ছেলে আবদুল্লাহ খানের সঙ্গে ইমনের বিরোধ ছিল। কয়েক মাস আগে আবদুল্লাহর সঙ্গে ইমনের ঝগড়া হয় এবং তা সামাজিকভাবে মীমাংসাও করা হয়। কিন্তু আক্রোশ নিয়ে ইমনের পেছনে লেগে ছিলেন আবদুল্লাহ। বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ ২১ জুলাই রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পেশকারপাড়া স্লুইসগেট এলাকায় আবদুল্লাহর বাড়ির সামনে ছিকু বরফ কলসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। প্রথমে ইমনের পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন আবদুল্লাহ। এরপর অন্যরা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত, লাঠি, হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। একপর্যায়ে ইমন মাটিতে ঢলে পড়লে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় লোকজন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ইমনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ইমনকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা জান্নাতুল বাকিয়া রোজি। ইমনের নানা গোলাম মওলা প্রথম আলোকে বলেন, মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ সকালেও মূর্ছা গেছেন। দুপুরে তাঁকে নিয়ে চট্টগ্রাম রওনা দেন তিনি। তিনি বলেন, আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে ইমনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে শহরে ইমনের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা ছাত্রলীগ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন