খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিঘলিয়া গ্রামের সাহাপাড়ার বাসিন্দারা বাড়িতে ফেরেননি এখনো। বাজারের প্রায় অর্ধেক দোকান আজ সোমবারও খোলা হয়নি। বন্ধ থাকা দোকানগুলো হিন্দুদের। আতঙ্ক কাটেনি তাঁদের। ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলার পর তাঁরা বাড়ি ছাড়েন।

এর আগে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত শনিবার রাতে আকাশ সাহার বিরুদ্ধে মামলা করেন দিঘলিয়া এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন কচি। শনিবার রাতেই আকাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন দিয়ে গতকাল বিকেলে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলম তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ফেসবুক পোস্টের জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর দিঘলিয়ার সাহাপাড়ায় দুটি বাড়ি ভাঙচুর হয়। একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বাজারের তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। তখন চারটি মন্দিরে হামলার ঘটনাও ঘটে। এর আগে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া অভিযুক্ত তরুণের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা করে ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত সাড়ে নয়টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাতে সাহাপাড়ার বাসিন্দা দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র সাহা ও ব্যবসায়ী গৌর সাহার বাড়িতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। পান বিক্রেতা গোবিন্দ সাহার বাড়ির একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ছাড়া দিঘলিয়া বাজারে গৌতম সাহা, নিত্যদুলাল সাহা ও অনুপ সাহার দোকান ভাঙচুর করা হয়। হামলা করা হয় ওই এলাকার রাধাগোবিন্দ মন্দির, আখড়াবাড়ি সর্বজনীন মন্দির, মহাশ্মশান কালীমন্দির ও স্বপন সাহার পারিবারিক মন্দিরে।

রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি শিবনাথ সাহা গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, সাহাপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে এ পাড়ার বাসিন্দারা বাড়ি ছাড়তে থাকেন। রাত একটার পর ভয়ে অধিকাংশ বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। যাঁরা রাতে বাড়িতে ছিলেন, তাঁদের রাত কেটেছে না ঘুমিয়ে। বাকিরা পরদিন ভোরে বাড়ি ছাড়েন। এসব পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে ১০৮টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। সর্বোচ্চ ২০ জন পুরুষ বাড়িতে আছেন। বাড়িতে নেই কোনো নারী। তাঁরা আতঙ্কে বাড়িতে ফেরেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন