ফেসবুক পোস্টের জের ধরে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর দিঘলিয়ার সাহাপাড়ায় দুটি বাড়ি ভাঙচুর হয়। একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বাজারের তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। তখন চারটি মন্দিরে হামলার ঘটনাও ঘটে। এর আগে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া অভিযুক্ত তরুণের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা করে ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত সাড়ে নয়টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাতে সাহাপাড়ার বাসিন্দা দিঘলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ চন্দ্র সাহা ও ব্যবসায়ী গৌর সাহার বাড়িতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। পান বিক্রেতা গোবিন্দ সাহার বাড়ির একটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ছাড়া দিঘলিয়া বাজারে গৌতম সাহা, নিত্যদুলাল সাহা ও অনুপ সাহার দোকান ভাঙচুর করা হয়। হামলা করা হয় ওই এলাকার রাধাগোবিন্দ মন্দির, আখড়াবাড়ি সর্বজনীন মন্দির, মহাশ্মশান কালীমন্দির ও স্বপন সাহার পারিবারিক মন্দিরে।

রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি শিবনাথ সাহা গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, সাহাপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে এ পাড়ার বাসিন্দারা বাড়ি ছাড়তে থাকেন। রাত একটার পর ভয়ে অধিকাংশ বাড়ি ফাঁকা হয়ে যায়। যাঁরা রাতে বাড়িতে ছিলেন, তাঁদের রাত কেটেছে না ঘুমিয়ে। বাকিরা পরদিন ভোরে বাড়ি ছাড়েন। এসব পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে ১০৮টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। সর্বোচ্চ ২০ জন পুরুষ বাড়িতে আছেন। বাড়িতে নেই কোনো নারী। তাঁরা আতঙ্কে বাড়িতে ফেরেননি।

এদিকে আখড়াবাড়ি গ্রামের শচিনান্দ জানান, ঘটনার পরদিন শনিবার রাতে তাঁর দুটি গরু গোয়ালঘর থেকে কে বা কারা নিয়ে গেছে।

লোহাগড়া থানার ওসি শেখ আবু হেনা বলেন, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিরাপত্তা দিতে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। হামলাকারীদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।’

সেই অধ্যক্ষও বাড়ি ফেরেননি

নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছনার এক মাস হয়ে গেছে। ঘটনার পর আজও তিনি বাড়ি ফেরেননি। অজানা আতঙ্কে তিনি বাড়ি ফিরছেন না বলে প্রথম আলোকে জানিছেন। তবে তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাহারা আছে।

গত ১৮ জুন নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এর আগের দিন ১৭ জুন ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিজের ফেসবুকে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার পক্ষ নিয়ে ছবিসহ একটি পোস্ট দেয়। সেই পোস্টের জের ধরেই শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে।

এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার পর থেকে মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজ বন্ধ আছে। ঈদের ছুটির পর সারা দেশের কলেজ খুললেও এই কলেজ খোলেনি। তবে ২০ জুলাই কলেজটি খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন