দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়ার ঘোষণা জামায়াত কর্মীর

সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘অপকর্মের’ প্রতিবাদে দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামী ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলের এক কর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলার হরিণাগাড়ি গ্রামেছবি : প্রথম আলো

সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘অপকর্মের’ প্রতিবাদে দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামী ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলের এক কর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হরিণাগাড়ি গ্রামের দেবাশীর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

জামায়াতের ওই কর্মীর নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৭)। তাঁর বাড়ি হরিণাগাড়ি গ্রামে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন।

দেলোয়ার হোসেন আজ রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি জামায়াতের কর্মী। দলকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতাম, কাজ করতাম। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতার এ ধরনের অপকর্মের ভিডিও দেখে মানুষ ছি ছি করছে। দলীয় তদন্তে প্রমাণও মিলেছে তাঁর অশালীন কর্মকাণ্ডের। তারপর আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ দল আর করব না। দুধ দিয়ে গোসল করে ঘোষণা দিয়েছি জামায়াতে ইসলামী দল আর করব না। ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলেও যোগ দেব না।’

নূরনগর ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেলোয়ার জামায়াতের কর্মী। তবে কোন পদে আছে, তা এখনই বলতে পারছি না। আমি একজন কর্মীর কাছ থেকে শুনেছি, তিনি আজ দুধ দিয়ে গোসল করে বলেছেন আর দল করবেন না।’

গত সোমবার রাতে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। পরদিন গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন গতকাল বুধবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন

গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে তাঁর বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন হয়। এ ছাড়া উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী ও নূরনগর ইউনিয়নে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

আরও পড়ুন