বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিতে গতকাল রোববার ভোলা জেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। সেখানে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে একজন নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

বিএনপির দাবি, নিহত আবদুর রহিম ভোলা সদর উপজেলার দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ছিলেন। দলটির নেতাদের দাবি, পুলিশ অতর্কিতভাবে তাঁদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দিয়ে গুলি চালিয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাবেশের অনুমতি নিয়ে মিছিল বের করায় পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর চড়াও হন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘ভোলায় আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরেছে। একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের নির্দেশে পুলিশ এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। আমরা আবদুর রহিমের রক্ত বৃথা যেতে দিতে পারি না। আবদুর রহিমের আত্মত্যাগকে ধারণ করেই এ দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, আরও বেগবান হয়ে এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।’

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আবদুল্লাহ সাদি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল, মিজানুর রহমান, নিজামুল হক, রোকুনোজ্জামান রোকন মোল্লা, জাহিদ মোল্লা প্রমুখ।

এর আগে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে মিছিল নিয়ে তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

রহিমের লাশ দাফনের অপেক্ষায়

নিহত সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বেলা দুইটার দিকে ভোলা শহরের কবরস্থান মসজিদে জানাজা হয়। জানাজা শেষে লাশ ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দীঘলিয়া ইউিনয়নের কোড়ারিয়া গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ব্যক্তির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান। তিনি বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আবদুর রহিম নিহত হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তেও গড়িমসি করা হয়েছে। একজন মৃত ব্যক্তির লাশের সঙ্গে নির্দয় আচরণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের সব রকম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। লাশ যেন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে না নেওয়া হয় সেই শর্ত দিয়ে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে সরকার জনরোষকে কতটা ভয় পায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন