এর মধ্যে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব কাইয়ুম সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করছেন আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী। তবে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা এখনো বিষয়টি স্বীকার করেননি। কাইয়ুম সরকারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৫টি মামলা আছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় বলেন, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ইমান হাসানের বাড়ি থেকে ৩টি ককটেল, ৫৪টি ছোট-বড় মার্বেল, ৭৪টি পাথরের টুকরা, ৫টি খালি কৌটা এবং সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৫৪০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করা হয়। ইমান হাসানকে আটকের পর নরসিংদী মডেল থানায় আনা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন তাঁর সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম বলেন। পরে তাঁদের উল্লেখ করে পরদিন বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠান।

মামলায় বিএনপির নেতাদের আসামি করার ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিজিৎ রায় বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কোনো ব্যাপার নেই। জিজ্ঞাসাবাদে যাঁদের নাম এসেছে, শুধু তাঁদেরই আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে দেখা যায়, ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ইমান হাসানকে। ২ নম্বর আসামি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল কাইয়ুম সরকার। তবে এজাহারে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘কাইয়ুম মিয়া’ নামে। মামলার এজাহারে এই দুজনের ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। বাকি ছয় আসামির নাম ও বয়স উল্লেখ করা হলেও পিতার নাম ‘অজ্ঞাত’ লেখা হয়েছে। তাঁদের ঠিকানা লেখা হয়েছে নরসিংদী সদর উপজেলা।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, আওয়ামী লীগের নেতার বাড়ি থেকে ককটেল, বোমা ও গান পাউডার উদ্ধার করল পুলিশ। আর মামলা হলো বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক মামলা করে চলেছে। সরকার বিএনপিকে ভয় পাচ্ছে বলেই এসব মামলা দেওয়া হচ্ছে।

শাহ আলম চৌধুরী বলেন, ‘এই মামলায় ইমান হাসান ছাড়া বাকি যেই সাতজনকে আসামি করা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কেবল বিএনপির রাজনীতি করেন বলে তাঁদের ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থেকেও কেবল হয়রানি করতে পুলিশ আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে কোনোক্রমেই জড়িত নন।’

তবে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আসাদুল্লাহর দাবি, ইমনকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ষড়যন্ত্র করেছেন। আসাদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান হাসানের বাড়িতে পরিত্যক্ত ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম রেখে তাঁকে ফাঁসিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে ওই মামলায় অন্য কাদের আসামি করা হয়েছে, আমি জানি না।’

এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে পুলিশ যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। পুলিশ বিনা অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে মামলা করে না। কে কোন দল করেন, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। বিএনপির নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ মামলায় বিএনপির কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর আমার কাছে নেই।’