হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও আবাসিক সুবিধা পাওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীদের আসন দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৭ আগস্টের মধ্যে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত শিক্ষার্থীরা হল থেকে চলে না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেবেন বলে জানান।

হলে কত সংখ্যক অবৈধ ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী আসন দখল করে আছেন, জানতে চাইলে শামীম হোসেন বলেন, এ ধরনের শিক্ষার্থীরা হলে আছেন। তবে সংখ্যাটা এখনো বের করা হয়নি। এটাও করা হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর হল খুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পর থেকেই আসন দখল করতে বিভিন্ন আবাসিক হলে তালা মারতে শুরু করে ছাত্রলীগ। পাশাপাশি বৈধভাবে হলে ওঠা শিক্ষার্থীদের নানা কায়দায় হলছাড়া করতে থাকেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। মধ্যরাতেও শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে হলছাড়া করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৩ জুন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের কক্ষে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ জুলাই ৪৪ আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে ওঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ৪৪ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে হলে তুলে দিতে পারে প্রশাসন। এ নিয়ে গত ২ জুলাই প্রথম আলোতে ‘২০ শিক্ষার্থীকে তুলতেই হল প্রশাসনের রাত শেষ, ছাত্রলীগের বাধা’ শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী হলের উদ্যোগের এক মাসের মাথায় এবার মাদার বখ্শ হল প্রশাসন অবৈধদের বের করে দিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আবাসিক সুবিধা পাওয়া শিক্ষার্থীরা হল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক সুবিধা পেয়েও বাইরে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে মেসে থাকছেন। এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যাঁরা দুই বছর আগে আবাসিক সুবিধা কার্ড পেয়েও হলে উঠতে পারেননি। অনেকে আবার এক বছর, ছয় মাস ধরে হলে ওঠার জন্য ঘুরছেন।

আবাসিক সুবিধা পাওয়া ভুক্তভোগী এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে হল প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেছেন। দেরিতে হলেও হয়তো এবার হল প্রশাসন পারবে। এর আগে সোহরাওয়ার্দী হল প্রশাসন অনেকটাই পেরেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন