আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজটিতে আবাসিক সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। হোস্টেলে জায়গা না হওয়ায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় মূল একাডেমিক ভবনের একটি কক্ষে গাদাগাদি করে। সেখানে নেই পর্যাপ্ত টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা। ডাইনিংয়ে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক পাখা, লাইট, চেয়ার, টেবিল নেই। হোস্টেলে পানির পাম্প ও ট্যাংকের সমস্যা। কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও দুর্ব্যবহারে তাঁরা অতিষ্ঠ। এতে তাঁদের দুর্বিষহ দিন পার করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পঞ্চম বর্ষের এক শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে আজকের এই আন্দোলন। এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অভিভাবক আছে বলেও মনে হয় না। তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধানে দায়িত্ব নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হন না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাঁদের সঙ্গে যাচ্ছেতাই আচরণ করেন।

এদিকে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালাম জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে অধ্যক্ষ আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব দাবি এখনই সমাধানের সুযোগ আছে, সেসব দাবি আজ থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। বাকি দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষার্থীরা কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে ক্লাসে ফিরবেন।

বৈঠক শুরুর আগে কলেজের দুজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট ত্রুটি আছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। শিক্ষার্থীদের সব দাবির যৌক্তিকতা আছে। কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা।