সিলেটের ওসমানীনগরে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার পেছনে চালকদের গাফিলতিকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, সকালে ফাঁকা মহাসড়কে দ্রুতগতিতে চলছিল বাস দুটি। দুই চালকই ‘ঘুমঘুম চোখে’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত ৩০ জন। দুর্ঘটনার পর দুই বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০), ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা, সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪)।
দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসটি মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি একই দিকের একটি পিকআপকে অতিক্রম করতে গিয়ে সড়কের ডান পাশে চলে আসে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে দুটি বাসই দুমড়েমুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. অপু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খাদে পড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসেই হতাহত বেশি হয়েছে।
সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে সড়ক ফাঁকা থাকায় দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল। একে অপরকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভিডিওটি পুলিশ দেখেছে দাবি করে ওসি বলেন, দুই চালক ‘ঘুমঘুম চোখে’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর দুই বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
নিহত ৯ জনের মধ্যে সাতজনের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানায় এবং দুজনের মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।