আঁখির পরিবার সূত্র জানায়, সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গোল্ডেন বুট জেতায় এ ফুটবলারকে পৌরসভার ভালো জায়গায় তিন শতক জমি উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে সে সময়ের দেওয়া জমি পায়নি এই নারী ফুটবলারের পরিবার। এরপর গত ৪ জুন সিরাজগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আঁখির পরিবারের কাছে পৌরসভার একটি নিচু জায়গার ৮ শতক জমির দলিল হস্তান্তর করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। এই জমি নিয়ে আর সমস্যা হবে না, এমনটাই জানানো হয়েছিল আঁখির পরিবারকে। কিন্তু সম্প্রতি সেই জমি নিয়েও শুরু হয়েছে আইনি জটিলতা।

সহকারী পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলামকে দিয়ে এক সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুজনকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আজ দুপুরে আঁখির বাবা আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বুধবার বিকেলে শাহজাদপুর থানার এএসআই মামুনসহ কয়েকজন পুলিশ তাঁর বাড়িতে আসেন। তাঁরা বলেন, সরকারের দেওয়া আঁখির জমির বিষয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট যাতে না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে এএসআই মামুন তাঁকে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন।

আক্তার হোসেন তাঁকে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তখন আবারও স্বাক্ষর দিতে জোর করলে তিনি সেখানে স্বাক্ষর না দেওয়ায় থানায় ধরে নিয়ে যাবেন বলে হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাদপুর থানার এএসআই মো. মামুন বলেন, ‘আঁখিদের বাড়ির জমির বিষয়ে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট যাতে না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত করতে একটি নোটিশ নিয়ে আঁখির বাড়িতে গিয়েছিলাম। নোটিশ বিষয়ে আঁখির বাবাকে বোঝানোর পর সেখানে একটি স্বাক্ষর করতে বলা হয়। তিনি সেখানে স্বাক্ষর না করায় কিছু ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে ওসি স্যার বিষয়টির সমাধান করেছেন। আমি আঁখির বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপাজয়ী জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য আঁখি খাতুনের বাড়ি। সেখানে এক শতক জমির ওপর দোচালা একটি টিনের ঘরে আঁখি বেড়ে উঠেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন