গাংনীতে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও পুড়ল পাকা গমের খেত, ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নাড়া পোড়াতে গিয়ে পুড়ে যায় পাকা গম। একপর্যায়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ দুপুরে উপজেলার চোখতোলা মাঠেছবি: প্রথম আলো

মেহেরপুরের গাংনীতে গমের নাড়া (কাটার পর গাছের অবশিষ্ট খড়) পোড়াতে গিয়ে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার চোখতোলা মাঠে এ ঘটনায় অন্তত ১৫ বিঘা জমির গমসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে গেছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ দুপুরে চোখতোলা মাঠের এক প্রান্তে নিজ জমি পরিষ্কারের জন্য গমের নাড়ায় আগুন দেন কৃষক আজিজুল ইসলাম। দমকা বাতাসে মুহূর্তে সেই আগুন পাশের জমিতে পাকা গমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকজন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে বামন্দী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। সেখানে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে মাঠের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়।

নিজের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক মজনু মিঞা। তিনি বলেন, ‘আর কদিন পরেই গম ঘরে তোলার কথা ছিল। আগুনে আমার খেতের সব গমের সঙ্গে পানি তোলার শ্যালো ইঞ্জিনটাও পুড়েছে। আমার আর কিছুই রইল না।’

আরেক কৃষক লতিফ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার করে এবার আবাদ করেছিলাম। আশা ছিল, গম বিক্রি করে ধার শোধ করব। আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন পাওনাদারদের কী জবাব দেব?’

আরও পড়ুন

এর আগে বৃহস্পতিবারে একই উপজেলার শিমুলতলা হাড়িয়াদহ মাঠে একই কায়দায় খড় পোড়াতে গিয়ে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে যায়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও চোখতোলা মাঠে এমন ঘটনা ঘটল।

নাড়া পোড়ানোকে নিরুৎসাহিত করে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, জমিতে নাড়া পোড়ালে শুধু অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিই বাড়ে না, বরং মাটির উপরিভাগের উর্বরতা শক্তি ও উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস হয়। কিন্তু জমি দ্রুত পরিষ্কারের সহজ উপায় হিসেবে কৃষকেরা এই বিপজ্জনক পথটিই বেছে নিচ্ছেন।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, ‘জমিতে আগুন না দিতে আমরা মাঠ দিবস, লিফলেট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করছি। তা সত্ত্বেও কিছু কৃষকের অসচেতনতার মাশুল দিতে হচ্ছে আরও অনেককে। এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও লোকচক্ষুর আড়ালে কৃষকেরা তা করে যাচ্ছেন।’

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, যারা বারবার নিষেধ সত্ত্বেও জমিতে আগুন দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।