মামলা সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন জাতের পাখি, বিশেষ করে শামুকখোল পাখিরা প্রজনন মৌসুমে এসে বাসা বাঁধে। বাচ্চা ফুটিয়ে তারা আবার চলে যায়। ২০২০ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাখির বিষ্ঠায় পরিবেশ নষ্টের কথা বলে কিছু গাছের ডালপালা কেটে দিয়েছিল। তারপর পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেছিলেন, হাসপাতালের পরিবেশ ও পাখি নিয়ে মানুষের আবেগ এই দুটি বিষয়কে সমন্বয় করেই তিনি কাজ করবেন। পাখির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন।

কিন্তু গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নালা নির্মাণের জন্য একটি অর্জুন গাছ কাটা হলে উড়তে না শেখা শতাধিক পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে যায়। এতে কিছু পাখি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। আর কিছু পাখির বাচ্চা জবাই করে নিয়ে যান শ্রমিক ও রোগীর স্বজনেরা।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মামলার বাদী এ খবর পান। খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা গাছের গুঁড়ি এবং ড্রেন নির্মাণের কাজ দেখতে পান। লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, গাছ কাটার ফলে পাখির বাচ্চাগুলো মাটিতে পড়ে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক এবং রোগীর দর্শনার্থীরা আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চা জবাই করে বাড়ি নিয়ে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাখি হত্যার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়। এসব কর্মকাণ্ড বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলার বাদী বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত–আট মাস আগে তাঁর বক্তব্য নিয়েছেন। সাক্ষীদেরও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। রাজশাহীতে বন আদালত নেই। তাই রাজশাহীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেছেন। মামলার তদন্তের বিষয়টি একটা ইতিবাচক দিক বলে তিনি মনে করেন। এই মামলা তদন্ত হওয়ার কারণে মামলার বিবাদীরা ভবিষ্যতে সচেতন থাকবেন। তা ছাড়া মামলাটির বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে। এতে নিশ্চয়ই সচেতনতা তৈরি হয়েছে। কারণ, রাজশাহীর আদালতে এই প্রথম এ ধরনের মামলা হয়েছে।