মামলার এজাহারে বাদী রবিউল প্রামাণিক (৪০) উল্লেখ করেছেন, সোমবার রাত আটটার সময় তিনি ও তাঁর কয়েকজন সমর্থক জানতে পারেন ডাঙ্গাপাড়া বাজারে দীঘাপতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাশেমসহ ১৫০ জন সরকার উৎখাতের বৈঠক করছেন। খবর পেয়ে তাঁরা বাজারের সেতুর পাশে গেলে ওই বৈঠক থেকে পাঁচ–সাতটি শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে। এ সময় তাঁরা বিএনপি কর্মী আবদুল ওহাবকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এলে আবদুল ওহাবকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ বাজার তল্লাশি করে পূর্ব পাশে রাস্তার ধারে আবদুর রাজ্জাকের নির্মাণাধীন পাকা ঘর থেকে আটটি ককটেলসদৃশ কৌটা উদ্ধার করে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডাঙ্গাপাড়া বাজার এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিনিধি। বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম একজন অটোরিকশাচালক। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, রাত তখন পৌনে নয়টার মতো। পরপর তিনটি বিকট শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেতুর কাছে এসে দেখেন, হেলমেট পরা ১১ জন লোক চারটি মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুত শহরের দিকে চলে যাচ্ছে। তিনটি মোটরসাইকেলে তিনজন করে নয়জন ও অন্যটিতে দুজন আরোহী ছিলেন।

সেতুর পশ্চিম পাশের ওয়ার্কশপে কাজ করেন ফেরদৌস হোসেন। তিনিও শব্দ শোনার পরপরই মোটরসাইকেলে অপরিচিত যুবকদের পালিয়ে যেতে দেখেছেন। ওই সময় বাজারে কোনো বৈঠক করতে কাউকে দেখেননি। ঘটনাস্থলের ২০ হাতের মধ্যে ফারুখ মণ্ডলের চায়ের দোকান। তিনিও বলেন, রাতে ডাঙ্গাপাড়া বাজারে কোনো জমায়েত বা বৈঠক হতে দেখেননি। তবে ককটেল ফাটিয়ে কয়েকজন অপরিচিত যুবককে মোটরসাইকেল নিয়ে শহরের দিকে যেতে দেখেছেন।

সেতু থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশের নির্মাণাধীন ঘর থেকে পুলিশ আটটি ককটেল উদ্ধারের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্মাণাধীন দোকানের মালিক আবদুর রাজ্জাক। তিনি যুবলীগ কর্মীদের হাতে আটক আবদুল ওয়াহাবের ভাই।
সেখানে গিয়ে আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী হাসিনাকে পাওয়া যায়। তাঁরা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতি করেন বলে জানান। হাসিনা বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন আলী এবং তাঁর আত্মীয় শাকিল হোসেন সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরা শাকিলের পক্ষে ভোট করেছেন, এই আক্রোশে সুমনের লোকজন ভোটের পরের দিন তাঁদের বেদম মারপিট করেন। সেই থেকে হয়রানির নানা চেষ্টা করছে। সর্বশেষ তাঁরা রাস্তার পাশের ফাঁকা দোকানে ককটেলের ব্যাগ ফেলে রেখে গিয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে আবদুল ওয়াহাবকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। এটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

আবদুল ওয়াহাবের স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতি করায় মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে আটক করানো হয়েছে।

নির্মাণাধীন ওই দোকানের পাশেই আবদুল খালেকের চায়ের দোকান। দোকানে বসে থাকা তাঁর ছেলে শাওন আলী বলেন, তিনি ককটেল উদ্ধার করতে দেখেননি। তবুও পুলিশ একটা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছে। অনেকেরই নিয়েছে, তাই তিনিও স্বাক্ষর দিয়েছেন।

জানতে চাইলে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহমেদ বলেন, আটটি ককটেল সাক্ষীদের সামনে উদ্ধার করা হয়েছে। ককটেলগুলো সেখানে কে মজুদ করেছিল তা তদন্ত করে দেখা হবে। আর বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে তা–ও যাচাই করে দেখা হবে। এখনো সবকিছু প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

তদন্ত করলে সব সত্য প্রমাণিত হবে বলে মনে করেন ডাঙ্গাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন আলী।

নাটোর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ। এ উপলক্ষে জেলাজুড়ে বিএনপির কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। তাঁদের ভয় দেখানোর জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।