আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কামাল মিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়িতে লাশ পৌঁছানোর পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন কামালের মা রহিমা খাতুন (৫৫) ও স্ত্রী তাকমিনা বেগম (২৫)। কামালে দুই ছেলের মধ্যে রাহিম মিয়ার বয়স চার আর ছোট ছেলে রায়হানের বয়স দুই। রায়হান শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাবার মৃত্যুর বিষয়টি দুই শিশু হয়তো উপলব্ধি করতে পারছে না। তবে দুই সন্তান নিয়ে অথই সাগরে পড়েছেন কামালের স্ত্রী। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অঝোড়ে কাঁদছেন রহিমা।

দুর্ঘটনার সময় পিকআপ ভ্যানের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই কামালের সঙ্গী সানন্দ দাস ও রেনু মিয়ার মৃত্যু হয়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় কামাল মিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

রেনু মিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় বেলা একটার দিকে। লাশ দেখে স্ত্রী, সন্তান আর আশপাশের মানুষ কাঁদতে শুরু করেন। রেনু মিয়ার লাশ দেখতে আশপাশের কয়েকশ মানুষকে ওই বাড়িতে ভিড় করতে দেখা গেছে।

একই সময় লাশ পৌঁছায় ধর্মতীর্থ গ্রামের সানন্দ দাসের বাড়িতে। বৃদ্ধ মা ভাসনা রাণী দাস (৭৫) তখন শোক পাগলপ্রায়। সানন্দ দাসের স্ত্রী হরমুতি রাণী দাস (৫০) ও মেয়ে অনুকা রাণী দাসও (৩০)  তখন চিৎকার করে কাঁদছিলেন। এ সময় তাঁদের সান্ত্বনা দিতে আসা প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থেকে মাছভর্তি একটি পিকআপভ্যান শিবপুরের ইটাখোলার দিকে যাচ্ছিল। ভোররাত পৌনে চারটার দিকে লাকী এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিআরটিসি বাসকে অতিক্রম করতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা ওই পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওই বাস ও পিকআপ ভ্যান আবার বিআরটিসির বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সানন্দ দাস ও রেনু মিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কামাল মিয়াকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ সময় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেহাবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা ঢাকায় ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।