সরাইলে সংসদ সদস্য আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার দাফন সম্পন্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। সরাইলের পরমানন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে আজ শনিবার রাত ৯টায় মরদেহ দাফন করা হয়।
আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে মাঈনুল হাসান ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবাকে তাঁর দাদা হাজী মকসুদ আলীর কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা থেকে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার মরদেহ সরাইলে আনা হয়। এরপর স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মরদেহ রাখা হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ মাঠে সন্ধ্যা সাতটায়। চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পরমানন্দপুর হাজী মকসুদ আলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে।
আজ ভোররাত তিনটার দিকে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি এক ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত ও হাওরবেষ্টিত পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জাগদলের (বিএনপির সাবেক নাম) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই বছর তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কুমিল্লা-১ আসন (নাসিরনগর-সরাইলের একাংশ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০১৮ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) সালে তিনি টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ দীর্ঘ ২৭ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১১ ডিসেম্বর আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারিতে এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলার ছড়া প্রতীক) তিনি ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন।
আবদুস সাত্তারের মরদেহের আশপাশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক একসময় সাত্তারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল আলম খন্দকারকে মরদেহের আশপাশে দেখা গেছে। তবে তাঁরা কেউই প্রথম আলোর কাছে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে রাজি হননি।
বিকেলে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ (নাসিরনগর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফরহাদ হোসেন, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলী, নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রাফি উদ্দিন প্রমুখ। জানাজায় বিএনপির দলীয় লোকজনেক দেখা যায়নি।
আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার জানাজায় বিএনপির নেতারা উপস্থিত না থাকায় জানাজা পূর্ব সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আল মামুন সরকার ও রফিক উদ্দিন ঠাকুর। সমাবেশে তাঁরা বলেন, আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার শেষ বিদায়ের দিনে বিএনপির নেতাদের উপস্থিত থাকা উচিত ছিল।