এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল গ্রেপ্তার রাজা মিয়ার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার রাজা মিয়া রিমান্ড মঞ্জুরের পর গতকাল থেকেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে বাস ডাকাত চক্রের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এর আগে তাঁরা আরও কোনো ডাকাতি কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন কি না, তাঁদের দলের সদস্য সংখ্যা, তাঁরা আর কি ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল ভোরে ভাড়া বাসা থেকে রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বাড়ি কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ বছর চারেক আগে ধর্ষণের অভিযোগে রাজা মিয়াকে তাড়িয়ে দেন এলাকাবাসী। এরপর টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ডে বাসা ভাড়া নিয়ে ঝটিকা পরিবহনের চালক হিসেবে চাকরি নেন রাজা।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল এক্সেপ্রেসের একটি বাস নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রাবিরতি করে। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশি কয়েক জন ডাকাত বাসে উঠে। বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাঁদের সব লুটে নেয়। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।

পরে বাসটি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের দিকে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাসটি মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে রাস্তার খাদে পড়ে গেলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস যাত্রীদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত মিয়া বাদী হয়ে মধুপুর থানায় বাস ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন