শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ‘দালাল দালাল’ স্লোগান

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবারছবি: প্রথম আলোে

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী, সমর্থক ও শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

প্রার্থীরা জানান, চেম্বার আদালতে শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় না আসা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে।

দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে সহ–উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাঁর গাড়ি থেকে নেমে অফিসে যাচ্ছিলেন, তখন বিক্ষোভকারীরা ‘দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন। তিনি হাঁটতে হাঁটতে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকেন। এরপর দুপুর ১২টায় তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দালালদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’, ‘হাইকোর্ট না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে প্রার্থী আরমান হোসেন বলেন, ‘গতকাল উপাচার্য স্যার বলেছেন, তিনি প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আজ তাঁরা নির্বাচনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেবেন এবং উপাচার্য ক্যাম্পাসেই থাকবেন। এসব শর্তে তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়। আশা করছি, তাঁরা শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় নিয়ে আসবেন।’

শাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ বেলা তিনটায় চেম্বার আদালত বসবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে আবেদন করা হবে। এরপর শুনানি হলে রায় আসবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে। রায় আমাদের পক্ষে না এলে কঠোর কর্মসূচি দেব।’

শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই প্রার্থী ও এক শিক্ষার্থীর রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুলসহ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবিতে তাঁরা মিছিল করেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

এর আগে শাকসু নিয়ে রিটের প্রতিবাদে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শাকসু নির্বাচনসহ তিনটি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচির প্রতিবাদও জানান তাঁরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভকারীরা তালা ঝুলিয়ে দেন। এর পর থেকে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ–উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন

এ অবস্থায় রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক করে। এ ছাড়া কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈঠক করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া ও চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের পরদিন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দিবাগত রাত একটার দিকে কর্মসূচি ওই দিনের মতো স্থগিত ঘোষণা করেন এবং প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর উপাচার্যসহ অন্যরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন।