প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফারুক হোসেন বক্তব্য শেষ করে চলে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘গতকাল নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের বলেছেন, তোমরা ফরিদপুরে গিয়ে আমার সালাম পৌঁছে দাও। এ জন্য আজ আমরা এখানে এসেছি সালাম বিনিময় করতে।’ নানক আরও বলেন, ‘ফারুক হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কমিটি। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জয়লাভ করার জন্য, পরাজিত হওয়ার জন্য নয়। যে যে অবস্থানে আছেন, সে সেই অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা এই সভা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ টিম গঠন করে দেব। এই সভার পর সেই টিম বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াবে। আমিও বিভিন্ন জায়গায় যাব, চা পান করব।’

সভাকে ‘তাৎক্ষণিক একটি মতবিনিময় সভা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে সচেতন। আমরা মূলত মিলিত হয়েছি নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করতে। অপপ্রচার রয়েছে, আমাদের ঘরে ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। আমরা মেসেজ (বার্তা) দিতে চাই—আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুক। এর মধ্যে কোনো সংশয় সন্দেহ নেই। যারা সংশয়–সন্দেহ সৃষ্টি করছে, তাদের আগামীকাল ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবেন। এটা মূলত দলীয় এবং ঘরোয়া সভা।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমন একটা দল, কেউ যখন খোঁচা মারে, তখন এরা শক্ত হয়ে যায়। সময়মতো তারা এক জায়গায় দাঁড়াতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে ফরিদপুর ব্যতিক্রম। সব জেলায় নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা শুধু ফরিদপুরে এসেছেন খোঁজখবর নিতে। এতেই বোঝা যায় নেত্রীর কাছে এ জেলার গুরুত্ব কতটা।

বক্তব্যের একপর্যায়ে শক্তিশালী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আবদুর রহমান। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, কেন্দ্রীয় নেতা বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইশতিয়াক, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগেরে সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও জেলা পরিষদ সদস্য ঝর্ণা হাসান।

নাম ঘোষণা করে আবদুর রহমান বলেন, ‘আপনারা এ সভার পর বের হয়ে যাবেন। কিছু কানাকানি আছে, কিছু ডাকাডাকি আছে, ও বেশি করেছে, ও কম করেছে, এ–জাতীয় কথা আছে। এ টিম বের হলে আগামীকালের নির্বাচনের চেহারা পাল্টে যাবে। আর আমরা কেন্দ্রীয় নেতারা একটু নগরকান্দা ও সালথায় যাব, হাওয়া খেতে।’

আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে ভোট গ্রহণের ১৯ ঘণ্টা আগে আওয়ামী লীগের এ মতবিনিময় সভার মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা কাগজপত্র ঘেঁটে জানানো যাবে।