ঘটনাস্থলে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদার আরেক বোন তানজিলা আক্তার (৩০), ইজিবাইকের যাত্রী আমির চৌধুরী (৬০), মো. হাসিব (২৫) ও ইজিবাইকের চালক মো. সোহাগ (২৪)। গুরুতর আহত অবস্থায় ইজিবাইকের অপর তিন যাত্রী সাথী আক্তার (২২), তাঁর ১৮ মাস বয়সী মেয়ে ফারহানা ও স্বামী ফয়সাল হোসেনকে (৩৩) উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর বেলা দুইটায় সাথী আক্তার এবং বিকেল চারটায় তাঁর মেয়ে ফারহানা মারা যায়।

default-image

তানজিলা ও সাথী আপন বোন। তাঁরা বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীর নারঙ্গল গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে। হারুন মিয়ার ছয় মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। নাহিদা ও তানজিলা স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। আরেক বোন সাথীর বিয়ে হয়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। পঞ্চম বোন বীথি আক্তারের বিয়ের দিন ধার্য ছিল আগামী শুক্রবার। বরের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়।

এসব তথ্য জানিয়ে নাহিদার স্বামী শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বীথির বিয়ে উপলক্ষে তিনি স্ত্রী নাহিদা, শ্যালিকা তানজিলা ও তাঁর স্বামী নাসির উদ্দীনসহ সন্তানদের নিয়ে আজ সকালে ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি বাকেরগঞ্জের নারঙ্গল গ্রামে আসেন। এর আগের দিন বরিশালের গৌরনদী থেকে সাথী আক্তার তাঁর মেয়ে ফারহানাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে সাথী আক্তার তাঁর মেয়ে ফারহানা ও বোন তানজিলাকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা সদরে যান বিয়ের বাজার–সদাই করতে। সেখানে গৌরনদী থেকে এসে যোগ দেন সাথীর স্বামী ফয়সাল আহমেদ। তাঁরা সবাই মিলে বিয়ের জন্য মুরগি, মসলাপাতি, সবজি এবং অন্যান্য বাজার–সদাই করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বাস চাপা দেয় তাঁদের বহনকারী ইজিবাইকটিকে।

দুর্ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য কেনা ১০-১২টি মুরগি, আলু, পটোল, পেঁয়াজসহ অন্যান্য বাজার-সদাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। পা বাঁধা মুরগিগুলো মরে পড়ে আছে সড়কের এখানে-ওখানে।

default-image

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহাদাত মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে আছি। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, কীভাবে লাশগুলো আমরা নিতে পারব। পরিবারের সবাই তো এখন শোকাতুর। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। আমরা লাশগুলোর ময়নাতদন্ত না করে নেওয়ার পক্ষে।’

বাকেরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে একজন ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে এর জন্য কিছু আইনগত বিষয় আছে। এ জন্য লিখিত আবেদন করতে হবে। তারপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। কেউ মামলা করতে চায়নি। পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মামলা না হলে পুলিশের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী মামলা হবে।

বরিশাল বিআরটিসি ডিপো সূত্র জানায়, বরিশাল ডিপোর ওই বাস দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বরগুনার তালতলী থেকে বরিশাল পথে চলাচল করত। বাসটি কুমিল্লার গিয়াস উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করতেন। এর চালকও ইজারাদারের নিযুক্ত ছিলেন।

জানতে চাইলে বিআরটিসির বরিশাল ডিপোর ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, বাসটি তাঁদের ডিপোর হলেও দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বরিশাল-তালতলী পথে চলছিল। বাসের চালক বিআরটিসির নিয়োগপ্রাপ্ত নয়। এ ঘটনায় বিআরটিসির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

বাকেরগঞ্জে বিআরটিসি বাসচাপায় ছয়জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম বাড়ৈকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিআরটিএর বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ আলম এবং বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন